এম আবু হেনা সাগর, ঈদগাঁও
ফানস়ল্লা এক বিখ্যাত নাম। এটি মূলত সামাজিক পরামর্শ সভা। কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলার গ্রামীন জনপদে বিয়ে বাড়ীর অনুষ্ঠান থেকে এটি প্রায় বিলুপ্তির পথে।
ফানসল্লার পরিবর্তে আধুনিকতার ছোঁয়ায় হরেক রকম নান্দনিক চিটিই স্থান পেল বিয়ে উৎসবের অনুষ্ঠান। পূর্বেকার দিনে বাড়ীর উঠানে রঙিন কাপড়ে সজ্জিত বিয়েশাদী হতো। এখন পরিবর্তনে ক্লাব ভিত্তিক চলে বিয়ের মহা ধুমধাম আয়োজন।জানা যায়,বিয়ের অনুষ্ঠান আয়োজনের পূর্বে এ সংক্রান্ত পরামর্শ সভা করা হয়। যা চাটগাঁইয়া ভাষায় স্থানীয়ভাবে ফানস়ল্লা নামে পরিচিত। খুব জনপ্রিয় ও ঐতিহ্য ছিল পূর্বেকার সময়ে। ফানসল্লা শব্দটি ঈদগাঁও উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের গ্রামীন জনপদে বিয়ে উৎসবের একদিন আগে উঠানে পরামর্শ সভা করা হতো সমাজ ভিত্তিক মানুষদের নিয়ে। এটি বর্তমান সময়ে তেমন আর চোখে পড়েনা পাড়া মহল্লায়।
বিয়ের আগে বর-কণের পরিবার বিয়ে সংক্রান্ত বিষয়াবলী নিয়ে সমাজের সকলকে নিয়ে পরামর্শ সভার আয়োজন করা হতো। সমাজের প্রতিটি পরিবার হতে কমপক্ষে একজন প্রতিনিধি ফান স়ল্লায় উপস্থিত থাকতে বাধ্য।
ফানস়ল্লায় বর-কণের পরিবারের আর্থিক সামর্থ্যের সাথে সঙ্গতি রেখে সমাজের মানুষ তাদের মতামত পেশ করেন। বর-কণের পরিবারকে আর্থিক-মানসিক সাহায্যের বিষয়ও খুব সহজে তুলা হয় ফানস়ল্লায়। শুধু বিয়ে নয় যেকোন সামাজিক বিষয় ভিত্তিক আলোচনা করতেও ফানস়ল্লার আয়োজন করা হতো আগেকার দিনে। আকিকা,মেজবান, বড় বড় যেকোন অনুষ্ঠান করার আগে ফানস়ল্লার আয়োজন করায় ছিল প্রধান গ্রামে।
স্থানীয় আলম,শফি,জাহেদরা জানান, বিগত একযুগ পূর্বেও ফান সল্লার কদর ছিল। বিয়ের আগের রাতে সমাজের লোকজনদের নিয়ে ঘরোয়া বৈঠক বসা হতো আয়োজকের বাড়ীতে। এখন সে পুরনো স্মৃতি হারিয়ে যাচ্ছে সমাজ থেকে। উঠানে হয়না বিয়ে, ক্লাব ভিত্তিক চলে বিয়ের নানান রুচিসম্মত মহা আয়োজন।
স্থানীয় প্রবীনরা জানান,পান খেয়ে স়ল্লা করার নামই ফানস়ল্লা। স়ল্লা দ্বারা পরামর্শ করা কিংবা আলোচনা করা বা পরিকল্পনাকে বোঝায়। অর্থাৎ পান খেয়ে বিয়ে সংক্রান্ত আলোচনা করা হলো ফানস়ল্লা। ফানস়ল্লাতে পান-সুপারির পাশাপাশি রং চা ও মজা দার বেলা বিস্কুট দেওয়ার প্রচলন ছিল। এখন সেই মধুমাখা দিন আর নেই।ঈদগাঁও মধ্যম মাইজ পাড়া আক্কাস উদ্দিন সমাজ কমিটি সদস্য হাফেজ নুরুল হক জানান, এ সমাজ কমিটির উদ্যোগে হারানো স্মৃতি ফানসল্লাসহ অন্যন্য জিনিস সমাজে ফিরিয়ে এনে পুনরায় পূর্বের ঐতিহ্য ধরে রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।