ডেস্ক :
বরিশাল জেলার বাকেরগঞ্জ উপজেলায় বালুভর্তি বস্তায় বিস্ফোরণের ঘটনায় নারী ও শিশুসহ ৩ জন গুরুতর দগ্ধ হয়েছেন। সোমবার ভোরে উপজেলার ভরপাশা ইউনিয়নের দুধলমৌ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। বরিশাল জেলার বাকেরগঞ্জ উপজেলায় বালুভর্তি বস্তায় বিস্ফোরণের ঘটনায় নারী ও শিশুসহ ৩ জন গুরুতর দগ্ধ হয়েছেন। আহতদের প্রথমে বাকেরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হলে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।স্থানীয় সূত্রে জান গেছে, আজ ভোর ৬টার দিকে দুধলমৌ গ্রামের শাহআলম হাওলাদারের বাড়ির পাশে হঠাৎ বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। এতে শাহআলমের স্ত্রী হনুফা বেগম (৫০), মেয়ে ইতি (২২) ও নাতি ফাহিম (১৪) গুরুতর দগ্ধ হন।। বিস্ফোরণের শব্দে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং ঘটনাস্থলে উৎসুক মানুষের ভিড় জমে।আহতদের স্বজনদের ভাষ্য, ঘরের পাশে রাখা একটি বালুভর্তি বস্তার মধ্যে বিস্ফোরণটি ঘটে। এতে আগুনে দগ্ধ হয়ে আহত ৩ জন প্রাণ বাঁচাতে বাড়ির সামনের তুলাতলা নদীতে ঝাঁপ দেন। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।খবর পেয়ে বাকেরগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছে এবং বিস্ফোরণের উৎস ও কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু করেছে।বাকেরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. তারিকুল জানান, আহতদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে দগ্ধের ক্ষত রয়েছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে।শাহআলম হাওলাদারের ছেলে জামাল বলেন, ঘরের পাশে থাকা বালুর বস্তার মধ্যে একটি বোমা বিস্ফোরণ হয়। ঘটনাস্থলে আমার মাসহ বোন-ভাগিনার শরীরে আগুন ধরে যায়। ঘরের সামনে থাকা তুলাতলা নদীতে তারা ঝাঁপিয়ে পড়ে। ততক্ষণে তাদের শরীরের সব কাপড় পুড়ে যায়। গুরুতর অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। তবে বোমা কোথা থেকে আসলো এ বিষয়ে আমাদের কিছুই জানা নেই।বাকেগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি আদিল হোসেন বলেন, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। কী ধরনের বিস্ফোরক ব্যবহৃত হয়েছে এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত, তা তদন্ত শেষে নিশ্চিত হওয়া যাবে।এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ ও দায়ীদের শনাক্তে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।