নিজস্ব প্রতিনিধি:আবিদুর রহমান আলিফ
ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব বলেন, আমাদের বর্তমান ভূমি ব্যবস্থা মূলত ব্রিটিশ আমল থেকে চলে আসছে। ১৭৯৩ সালে লর্ড কর্নওয়ালিস যখন ‘চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত’ চালু করেন, তখন থেকেই এই জটিলতার গোড়াপত্তন। ব্রিটিশদের লক্ষ্য ছিল সর্বোচ্চ রাজস্ব আদায় করা। তবে, সেখানে মূল গলদ ছিল— যুক্তরাজ্যের ল্যান্ডলর্ডরা প্রকৃত জমির মালিক হলেও এ দেশের জমিদাররা মালিক ছিলেন না, তারা ছিলেন মূলত খাজনা আদায়কারী মধ্যস্বত্বভোগী। তারা একটা নির্দিষ্ট হারে খাজনা আদায় করতেন এবং সেটা সরকারের কাছে জমা দিতেন। বাকিটা তারা নিজেরা ব্যবহার করতেন। আরাম–আয়েশে সময় কাটাতেন। কিন্তু আস্তে আস্তে দেখা গেল, তাদের এই খাজনা আদায়ের সঙ্গে আরও কিছু মধ্যস্বত্বভোগী যুক্ত হয়ে গেল। এই যে নায়েব, তালুকদার, চৌধুরী— তারা প্রজাদের ওপর নির্যাতন বাড়ায়, যা আমাদের সামাজিক কাঠামো ভেঙে দেয়। তখন ভূমির আসল চাষীদের বলা হতো ‘রায়ত’ বা প্রজা। পরবর্তীকালে ১৯৫০ সালে শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকের উদ্যোগে ‘স্টেট অ্যাকুইজিশন অ্যান্ড টেন্যান্সি অ্যাক্ট’ (SAT Act)-এর মাধ্যমে জমিদারি প্রথা বিলুপ্ত হয় এবং ১৯৫৫ সালে বেঙ্গল টেন্যান্সি অ্যাক্ট বা প্রজাস্বত্ব আইন করা হয়। এতে রায়ত বা প্রজাদের বদলে ‘ভূমি মালিক’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। তবে, সিএস ও আরএস (রিভিশনাল সার্ভে) জরিপের পর থেকে রেকর্ড হালনাগাদ ও সংরক্ষণের সঠিক ব্যবস্থা ছিল না। কোথাও জরিপ শেষ হয়নি, আবার কোথাও ঘুষ লেনদেন ও অসততার মাধ্যমে অন্যের জমি অন্য নামে রেকর্ড হয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছিল দালাল চক্র। তা ছাড়া ১৯৪৭ সালের দেশভাগ, ১৯৬৫ সালের যুদ্ধ ও ১৯৭১ সালের যুদ্ধের পর যথাক্রমে ‘বিনিময় সম্পত্তি’, ‘শত্রু সম্পত্তি’, ‘অর্পিত সম্পত্তি’ ও ‘পরিত্যক্ত সম্পত্তি’ তৈরি হয়ে আইনি জটিলতা আরও বাড়ায়। দুর্ভাগ্যবশত, গত ১৭ বছরে এসব আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতা নিরসনে কার্যকর কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি। এ পর্যায়ে তিনি বলেন, অটোমেটেড ভূমি সেবা চালুর ক্ষেত্রে মূল চ্যালেঞ্জ ছিল রেকর্ডপত্রের ভুল-ভ্রান্তি ও দুষ্প্রাপ্যতা। এই জটিলতা কাটাতে আমরা ইউএনডিপির কারিগরি সহায়তায় দেশব্যাপী নতুন এন্ট্রি ও হালনাগাদ রেকর্ড সংশোধনের কাজ শুরু করেছি। ইতোমধ্যে সফল পাইলটিং শেষে দেশের সর্বমোট ৬১টি জেলায় এই ডিজিটাল সংশোধন কার্যক্রম পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, মাঠ প্রশাসনে বদলির তদবির এখন ক্যানসারের মতো রূপ নিয়েছে। এই সংস্কৃতি বন্ধে ন্যূনতম ২ বছর পদায়নের নীতি ও কড়া পরিপত্র জারি করা হচ্ছে। কোনো কর্মকর্তা যদি কোনো তৃতীয় পক্ষ, সংসদ সদস্য বা প্রভাবশালী ব্যক্তিকে দিয়ে বদলির অসৎ তদবির করান, তবে তাঁর বিরুদ্ধে কোনো ছাড় না দিয়ে সরাসরি বিভাগীয় মামলা দায়ের করা হবে।