নিজস্ব প্রতিনিধি:আবিদুর রহমান আলিফ
পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকি, ডেঙ্গুমুক্ত জীবন গড়ি—নিজ আঙ্গিনা পরিষ্কার রাখি, সবাই মিলে ডেঙ্গু প্রতিরোধ করি’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে খুলনা জেলা বটিয়াঘাটা উপজেলায় ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে বর্ণাঢ্য র্যালি ও ব্যাপক পরিচ্ছন্নতা অভিযান অনুষ্ঠিত হয়েছে।ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান-২০২৬ উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে প্রশাসনের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সেনাবাহিনীর সদস্য, বিএনসিসি ক্যাডেট, জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা এবং গণমাধ্যমকর্মীরা অংশ নেন।র্যালিটি বটিয়াঘাটা উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন সড়ক ও এলাকা প্রদক্ষিণ করে। পরে উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা বিভিন্ন বাজার ও জনসমাগমস্থলের পরিচ্ছন্নতা পরিস্থিতি সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। বিশেষ করে বটিয়াঘাটা বাজারে ড্রেন, রাস্তার পাশ ও বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা অপসারণ এবং ডেঙ্গুর জীবাণুবাহী এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।অভিযানের অংশ হিসেবে সংশ্লিষ্টরা নিজেদের হাতে ড্রেন ও বাজারের বিভিন্ন স্থানে জীবাণুনাশক ব্লিচিং পাউডার ছিটিয়ে দেন। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষকে বাড়ির আশপাশ পরিষ্কার রাখা, কোথাও পানি জমতে না দেওয়া এবং এডিস মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল দ্রুত ধ্বংস করার বিষয়ে সচেতন করা হয়।কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন বটিয়াঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা থান্দার কামরুজ্জামান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বটিয়াঘাটা উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব খন্দকার ফারুক হোসেন, থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মারুফ , যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা আবুবক্কার প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম, প্রকৌশলী গৌতম কুমার মণ্ডল, সেনাবাহিনীর কর্পোরাল সাজিদুল ও তাঁর সহযোগীরা।এ ছাড়া খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনসিসির ৪৭ জন ক্যাডেট স্বতঃস্ফূর্তভাবে র্যালি ও পরিচ্ছন্নতা অভিযানে অংশ নেন। তাঁদের অংশগ্রহণে কর্মসূচিতে বাড়তি প্রাণচাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়।কর্মসূচিতে আরও উপস্থিত ছিলেন বটিয়াঘাটা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদ সোহরাব মুন্সি, যুগ্ম সম্পাদক সেখ রাসেলসহ বিভিন্ন সাংবাদিকবৃন্দ।উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধ শুধু প্রশাসনের একার পক্ষে সম্ভব নয়। এ জন্য প্রত্যেক নাগরিককে নিজ নিজ বাড়ি, আঙিনা, কর্মস্থল ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখতে হবে। বিশেষ করে বৃষ্টির পর বিভিন্ন পাত্র, ড্রেন, পরিত্যক্ত টায়ার, ডাবের খোসা কিংবা যেকোনো স্থানে পানি জমে থাকলে তা দ্রুত অপসারণ করতে হবে।সংশ্লিষ্টরা জানান, পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেতনতাই ডেঙ্গু প্রতিরোধের অন্যতম কার্যকর উপায়। নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের পাশাপাশি জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা গেলে বটিয়াঘাটাকে ডেঙ্গুর ঝুঁকি থেকে অনেকটাই নিরাপদ রাখা সম্ভব।দিনব্যাপী এ কর্মসূচিতে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, বিএনসিসি ক্যাডেট, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও গণমাধ্যমকর্মীদের সম্মিলিত অংশগ্রহণ স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে। জনসচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি পরিচ্ছন্ন পরিবেশ গড়ে তোলার এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দার।