ঈদগাঁও, নিজস্ব প্রতিনিধি এম আবু হেনা সাগর
আধুনিকতার ছোঁয়ায় গ্রামবাংলার ইতিহাস আর ঐতিহ্যে ভরা কাছারি ঘর এখন অস্থিত্ব হারিয়ে বিলুপ্তির পথে ঈদগাঁও এলাকায়। পূর্বেকার দিনে কাচারিঘর গ্রামীন জনপদে আভিজাত্যের প্রতীক ছিল। বাড়ির আঙ্গিনার কাচারি ঘর তখন অতিথিরা থাকতো। বিশেষ করে,গ্রাম্য শালিসি বৈঠক বসত কাচারি ঘরে। ঘরটি মূল বাড়ির বাইরে থাকার কারণে বাড়ির সৌন্দর্য বাড়িয়ে তুলতো। এটিকে মক্তব হিসেবে ব্যবহার করা হতো। আধুনিকতার ছোঁয়ায় বাড়ির সৌন্দর্য কাচারি ঘর এখন আর তেমন চোখে পড়েনা।জানা যায়,বাড়ির বাহিরের আঙ্গিনায় অতিথি, ছাত্র ও জায়গিরদের থাকার ঘরটিকে কাচারি ঘর নামে চিনতেন সবাই। কাচারি ঘরটি বাড়ির দরজায় কাছে স্থাপন করায় বাড়ির সৌন্দর্য্যে অনেকাংশে বেড়ে যেতো। কাচারি ঘরে বাড়ির স্কুল কলেজ পড়ুয়া ছেলে-মেয়েরা পড়াশুনা করতেন পাশাপাশি সবাই বসে গল্প গোজরে মেতে উঠত। কালের বিবর্তনে এটি আর দেখা যায়না পাড়া মহল্লায়। প্রাপ্ত তথ্য, কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের গ্রামীন জনপদে একসময়ে প্রায় বাড়ীঘরে মূল বাড়ীর সামনে বা পাশ্ববর্তী স্থানে আলাদা কক্ষ থাকতো (সেটি কাচারি ঘর) নামে সুপরিচিত। এখন গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী কাছারি ঘর প্রায় বিলুপ্তির পথে। খুঁজলেও কটি ছাড়া বেশির দেখাও হয়তো মিলবেনা আর।আরো জানা যায়,শালিসি বিচারসহ গ্রামের সকল সামাজিক কাজ পরিচালিত হতো কাচারি ঘরে বসে। আধুনিকতার ছোঁয়ায় ইট-পাথরের গাঁথুনিতে একেবারে বিলুপ্তির পথে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী কাচারি ঘর। নেই কাচারি ঘরের সেই চিরচেনা শিক্ষার্থীদের পড়ার আওয়াজ, গ্রামের রাস্তায় সন্ধ্যায় পথচারীদের কাছে প্রতিটি বাড়ির স্কুল-কলেজ পড়ুয়া ছেলে মেয়েদের পড়ার আওয়াজ খুব পরিচিত ছিলো।রাতের বেলায় জারীগান, লুডু খেলা, অতিথিদের গল্প-আড্ডা, সকাল বেলায় মোক্তবে আরবি পড়ার মধুর সুর সবকিছু মিলিয়ে কাছারি ঘর ভিন্ন মাত্রা যোগ করতো। এছাড়া এসব ঘরে শ্রমিকরা বিশ্রাম নিতো কিন্তু এখন দিনের বেলায় কাজের শ্রমিকদের ক্লান্তি দূর করতে বিশ্রাম নিতে দেখা যায়না কাচারি ঘরে। বয়োবৃদ্ধ আহমদ হোসন জানান, একসময়ে পাড়া মহল্লায় কাচারি ঘর খুবই পরিচিত শব্দ ছিল। এখনকার যুগের ছেলেমেয়েরা কাচারি ঘর কি সেটি জানবেনা। প্রায় বিলুপ্ত এই কাচারি ঘর।আরেক বয়োবৃদ্ধ আলম জানান, গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য কাচারি ঘর এখন চোখে পড়েনা। পূর্ব পুরুষদের স্মৃতি ও ঐতিহ্য ধরে রাখতে কোথাও কোথাও কাচারি ঘর থাকলেও চিরচেনা কাছারি ঘরের কোন কার্যক্রম এখন আর চলমান নেই। এভাবে হারিয়ে যেতে থাকলে আগামী প্রজন্ম হয়তো একদিন ভুলে যাবে যে গ্রামের বাড়ীঘরে একসময় কাছারি ঘর ছিল।