জি. এম. ফিরোজ, ডুমুরিয়া।দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে সংস্কারের নামে কেবল আশ্বাস, বাস্তবে চেচুড়ি-দুহাকুলা সড়কের চিত্র যেন একেবারেই উল্টো। খানাখন্দে ভরা প্রায় আড়াই কিলোমিটার সড়কটি এখন অনেক জায়গায় পুকুরে পরিণত হয়েছে। চার চাকার যান চলাচল প্রায় বন্ধ; এমনকি মোটরসাইকেল নিয়েও স্বাভাবিকভাবে চলাচল করা কঠিন। ফলে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সড়কটির দুই পাশের প্রায় হাজারও পরিবারের প্রতিদিন চলাচলকারী হাজার হাজার মানুষ।ডুমুরিয়ার ১ নং ধামালিয়া ইউনিয়নের বরুনা অবদার মাথার বেড়িবাঁধে থেকে দুহাকুলা-চেচুড়ি ঋষিবাড়ি মোড় পর্যন্ত প্রায় আড়াই কিলোমিটার এ সড়কটি এলাকার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথ। সড়কের দুই পাশে রয়েছে চারটি মসজিদ, চারটি মন্দির, দুটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ অসংখ্য বসতবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান।স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে সড়কটি সংস্কারের কথা শোনা গেলেও দৃশ্যমান উন্নয়ন হয়নি। বর্ষা এলে খানাখন্দে পানি জমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। শিক্ষার্থী, রোগী, কৃষক, ব্যবসায়ী ও সাধারণ পথচারীদের প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।স্থানীয় মো. আলিফ সরদার বলেন, “ডুমুরিয়া-ফুলতলা-খুলনা-৫ আসনের এমপি মহোদয়ের সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে। এলজিইডির মাধ্যমে সড়কটি পাকা করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। অর্থ সংকটের কারণে কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে। অর্থের ব্যবস্থা হলে নতুন করে নির্মাণকাজ শুরু হবে বলে আমরা আশাবাদী।”বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক জাকির হোসেন বলেন, “দুহাকুলা-চেচুড়ি সড়কটি প্রায় আড়াই কিলোমিটার। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ চলাচল করেন। জন্মের পর থেকেই এই রাস্তা ভালো অবস্থায় দেখিনি। বর্তমানে একটি মোটরসাইকেলও স্বাভাবিকভাবে চলতে পারে না। রাস্তার পাশে মসজিদ, মন্দির, স্কুল ও প্রায় হাজার হাজার মানুষের বসবাস। দ্রুত সড়কটি পাকাকরণের দাবি জানাচ্ছি।”১ নং ধামালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বি. এম. জহুরুল হক বলেন, “চেচুড়ি-দুহাকুলা সড়ক পাকাকরণের জন্য এখনো এলজিইডির কোনো বাজেট হয়নি। তবে আগামী বাজেটে সড়কটি অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।”এ বিষয়ে ডুমুরিয়া উপজেলা প্রকৌশলী মোহাম্মদ দারুল হুদার সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।এদিকে স্থানীয়দের দাবি, গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কটি দ্রুত এলজিইডির মাধ্যমে পাকাকরণ করে চলাচলের উপযোগী করা হোক। দীর্ঘ ১৭ বছরের দুর্ভোগের অবসান ঘটিয়ে আড়াই কিলোমিটার সড়কে পাকা ঢালাই—এখন এটাই হাজারো মানুষের একমাত্র প্রত্যাশা।