ডেস্ক :
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) হলগেট সংলগ্ন এলাকা মাদকের আখড়ায় পরিণত হয়েছে। পাইকারী ও খুচরা সব ধরনের ক্রেতার সমাগম এখানে। বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার বাইরের মেসগুলোতে রমরমা মাদক বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ উঠেছে এই এলাকায় বিকিকিনির ভাগ পায় প্রশাসনের লোকজনও। বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগেট, হল রোড ও ক্যাম্পাস সংলগ্ন ইসলামনগর এলাকায় মাদকসেবন ও আড্ডার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। স্থানীয়দের দাবি, খুবির সাবেক শিক্ষার্থীদের একটি অংশকে ঘিরে এসব এলাকায় মাদকের বিস্তার ঘটছে। খুবির ভেতরে একাডেমিক ভবন থেকে গাঁজা উদ্ধারের ঘটনায় তিন শিক্ষার্থীকে বহিষ্কারের পর বিষয়টি সামনে এসেছে।ছাত্রবিষয়ক পরিচালক অধ্যাপক ড. মোঃ সালাউদ্দিন বলেন, আটক তিন শিক্ষার্থীর কাছে মাদকদ্রব্য পাওয়া গেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরের পরিবেশ নিয়ে তিনি বলেন, সেখানে কি হয় না হয় সেটি আমার দেখার বিষয় নয়। তবে পুলিশ প্রশাসন কেন ব্যবস্থা নেয় না।ঘটনার একদিন পরই বহিরাগত এক শিক্ষার্থীর ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়ের খানজাহান আলী হলগেট এলাকায় শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। ওই পোস্টে উল্লেখ করা হয়, ‘ক্যাফেটেরিয়ায় মিউজিক প্যাডের নামে তার ভিতরেই হয় মাদকের আখড়া, সরবরাহকারী সব মেধাবী খুবি শিক্ষার্থী! ক্যাম্পাসের ভিতরে মাদক ওইভাবে চললে বাইরে আর কিভাবে চলে সেটা তো বলার কিছু বাকি থাকে না।’ খুবির আশপাশ এলাকায় মাদক সংক্রান্ত অভিযোগ অবশ্য নতুন নয়। ২০২২ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের খান বাহাদুর আহছানউল্লাহ হলের দু’টি কক্ষ থেকে মদের বোতল, গাঁজা ও মাদক সেবনের সরঞ্জাম উদ্ধার হয়। খুবির সাবেক কয়েকজন ছাত্র এই মাদক নেটওয়ার্ক পরিচালনা করে থাকে। তারা এর পাশাপাশি নানা ধরনের ব্যবসাও পরিচালনা করে।
সরেজমিন দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের সীমানা ঘেঁষে গড়ে উঠেছে ইসলামনগর। শতাধিক বাড়িতে মেস করে বসবাস করেন প্রায় দেড় হাজার শিক্ষার্থী। তাদের ঘিরে গড়ে উঠেছে অসংখ্য ছোট-বড় দোকান ও নানা ধরনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখর থাকে পুরো এলাকা। অনেকটা ক্যাম্পাসেরই স¤প্রসারিত অংশ মনে হয় ইসলামনগরকে। মাঝখানে কেবল কাঁটাতারের বেড়া-এক পাশে বিশ্ববিদ্যালয়, অন্য পাশে শিক্ষার্থীদের আবাসস্থল। দুই এলাকার যোগাযোগের জন্য রয়েছে দু’টি প্রবেশপথ। ফলে ক্যাম্পাস ও ইসলামনগরের জীবনযাত্রাও যেন পরস্পরের সঙ্গে মিশে গেছে। এই জমজমাট এলাকা ঘিরে নতুন করে গড়ে উঠেছে মাদকের রমরমা বাণিজ্য।ইসলামনগরের এক বাড়িওয়ালা বলেন, যেসব বাড়িতে মালিক থাকেন না, সেখানে সন্ধ্যার পর মাদকসেবনের অভিযোগ পাওয়া যায়। শিক্ষার্থীদের ভয়ে অনেক বাড়িওয়ালা কিংবা স্থানীয় বাসিন্দা প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতে চান না। হরিণটানা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইকবাল হোসেন বলেন, খুবির হলগেট সংলগ্ন এলাকায় মাদক কেনাবেচার অভিযোগ পুরোনো। মাঝে মধ্যে অভিযান চালিয়ে কয়েকজনকে গ্রেফতার করেছি। এর পেছনে যারা রয়েছে তাদের তালিকা তৈরির কাজ চলছে।