জি. এম. ফিরোজ, ডুমুরিয়া:
বিলের শ্যাওলার মধ্যে মায়ের মৃতদেহের পাশে অসহায়ভাবে ডাকছিল ১২টি ছোট্ট পাখির ছানা। মাছ ধরতে গিয়ে সেই দৃশ্য দেখে মায়া হলো ডুমুরিয়ার কৃষ্ণনগর গ্রামের শান্তিরাম সরকারের (৬০)। ছানাগুলোকে বাড়িতে নিয়ে এসে স্ত্রী মল্লিকা সরকারের হাতে তুলে দেন তিনি। সেই থেকে শুরু হয় তাদের নতুন জীবন। প্রায় পাঁচ মাস ধরে সন্তানের মতো যত্নে বড় করে তোলা সেই অতিথি পাখিগুলো এখন পরিবারেরই সদস্য। বিশাল বিলডাকাতিয়া বিল পাশে থাকলেও তারা ছেড়ে যেতে চায় না আশ্রয়দাতা পরিবারকে।শান্তিরাম সরকার জানান, গত জুন মাসে রাতে বিলডাকাতিয়ায় মাছ ধরতে গিয়ে ছানাগুলোকে দেখতে পান। মা পাখিটিকে মৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে তিনি ছানাগুলো বাড়িতে নিয়ে আসেন। এরপর স্ত্রী মল্লিকা ও ছেলে মধু সরকার মিলে তাদের লালন-পালন শুরু করেন।
মল্লিকা সরকার বলেন, “আমি ওদের নিজের সন্তানের মতো যত্ন করি। মুরগির ফিড ও ভাত খাইয়ে বড় করেছি। লাখ টাকা দিলেও একটিও বিক্রি করব না।” এখন পাখিগুলো বাড়ির চারপাশে দেশি হাঁসের মতো ঘুরে বেড়ায়। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ পাখিগুলো দেখতে শান্তিরাম সরকারের বাড়িতে ভিড় করছেন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরাও এই মানবিক উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন। তবে বতমান ৯টি হাঁস পাখি বেঁচে আছে। ২ নং রঘুনাথপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনোজিৎ বালা বলেন, পাখিগুলোর প্রতি পরিবারের মমতা প্রশংসনীয়। একই সঙ্গে তিনি পাখিগুলোর নিরাপত্তা ও যত্ন নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন।ডুমুরিয়া উপজেলার আন্দুলিয়া গ্রামের কৃতী সন্তান ও সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা এ. এম. কামরুল ইসলাম বলেন, অতিথি পাখি শিকার না করে তাদের প্রতি মায়া-মমতা দেখানো জরুরি। এই পরিবারটির উদ্যোগ অন্যদেরও পাখি রক্ষায় অনুপ্রাণিত করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।তবে ডুমুরিয়া বন বিভাগের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বন্য অতিথি পাখি ব্যক্তিগতভাবে আটকে বা পালন করে রাখা আইনগতভাবে গ্রহণযোগ্য নয়; পাখিগুলোকে অবমুক্ত করতে হবে। ফলে পাখিগুলোর নিরাপত্তা ও বন্য পরিবেশে ফেরানোর বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে।