নিজস্ব প্রতিনিধী খুলনা:-পাবনার ঈশ্বরদীতে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ইউরেনিয়ামের আরও একটি চালান পৌঁছেছে। কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে গতকাল শুক্রবার সকাল সাড়ে সাতটার দিকে জ্বালানিবাহী তিনটি লরি প্রকল্প এলাকায় প্রবেশ করে। এবার টাঙ্গাইল-সিরাজগঞ্জ-পাবনা পথের পরিবর্তে পদ্মা সেতু হয়ে ইউরেনিয়ামের চালানটি ঈশ্বরদীতে নেওয়া হয়।এর আগে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত একটার দিকে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে রূপপুরের উদ্দেশে রওনা হয় লরিগুলো। সেনাবাহিনীর নিরাপত্তায় পদ্মা সেতু ও কুষ্টিয়া হয়ে ঈশ্বরদীতে পৌঁছায় ইউরেনিয়ামবাহী লরির বহর। সেনাবাহিনীর পাশাপাশি নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন এসআরবি ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা। পথে মহাসড়কের বিভিন্ন মোড়ে আগে থেকেই পুলিশ সদস্যদের মোতায়েন রাখা হয়।পুলিশ জানায়, রূপপুরের জ্বালানি পরিবহনের সময় যানজট এড়াতে মহাসড়কে সাময়িকভাবে ভারী যানবাহন চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছিল। বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থার মধ্য দিয়ে পরিবহন কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।রূপপুর প্রকল্প সূত্রে জানা যায়, দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য সাতটি কার্গোতে মোট ১৬৩টি ইউরেনিয়াম অ্যাসেম্বলি আনার কথা রয়েছে। এর মধ্যে গতকাল পঞ্চম চালানটি প্রকল্প এলাকায় পৌঁছেছে। এ ছাড়া প্রথম ইউনিটে জ্বালানি পুনঃস্থাপনের জন্য দুটি কার্গোতে আরও ৪৮টি অ্যাসেম্বলি দেশে আনা হবে।চলতি নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসে আরও চারটি ফ্লাইটে রাশিয়া থেকে ইউরেনিয়ামের চালান দেশে আসার কথা রয়েছে। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি করপোরেশন রসাটম জানিয়েছে, ডিসেম্বরের মধ্যে জ্বালানি সরবরাহের পুরো প্রক্রিয়া শেষ হবে।এর আগে ২০২৩ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের জ্বালানি দেশে পৌঁছায়। ওই বছরের অক্টোবর ও নভেম্বর মাসে আরও চারটি চালানে জ্বালানি প্রকল্প এলাকায় নেওয়া হয়। চলতি বছরের মে মাসে প্রথম ইউনিটের পারমাণবিক চুল্লিতে জ্বালানি স্থাপনের কাজ শেষ হয়।প্রায় দেড় বছর পর ব্যবহৃত জ্বালানির এক-চতুর্থাংশ পরিবর্তন করতে হবে। এ জন্য গত ৩ অক্টোবর প্রথম ইউনিটের অতিরিক্ত জ্বালানির একটি চালান রূপপুরে আনা হয়। সর্বশেষ ৩১ অক্টোবর দ্বিতীয় ইউনিটের চতুর্থ চালানের জ্বালানি প্রকল্প এলাকায় পৌঁছায়।