মোল্লা জাহাঙ্গীর আলম :
খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির তথ্য বিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল বলেছেন, রূপসায় কোনো সন্ত্রাস-চাঁদাবাজি বরদাশত করা হবে না। জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে রূপসাকে একটি শান্তিপূর্ণ ও মডেল উপজেলা হিসেবে গড়ে তোলা হবে।মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দিনব্যাপী রূপসা উপজেলার বিভিন্ন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।তিনি বলেন, “মানুষের উন্নয়ন করতে হলে সর্বপ্রথম সমাজে শান্তি, নিরাপত্তা ও সুশাসন নিশ্চিত করতে হবে। চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও হামলার মতো ঘটনা চলতে থাকলে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। বিএনপি কখনো সন্ত্রাসীদের প্রশ্রয় দেয় না। গুটি কয়েক সন্ত্রাসীর কারণে রূপসাকে অশান্ত হতে দেওয়া হবে না। অপরাধী যে-ই হোক, তাকে আইনের আওতায় আনতে হবে।তিনি আরও বলেন, “জনগণের জানমালের নিরাপত্তায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনকে কঠোর ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। জনগণের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হলে তাদের কঠোর জবাবদিহিতা করতে হবে। জনগণের শান্তি ও নিরাপত্তার সঙ্গে কোনো আপস করা হবে না।এমপি হেলাল সকালে নৈহাটি ইউনিয়নের শ্রীরামপুর বেড়িবাঁধ পরিদর্শন ও জিও ব্যাগের মাধ্যমে নদীভাঙন প্রতিরোধক কাজের উদ্বোধন করেন। তিনি বলেন, খুলনা-৪ আসনের বিভিন্ন এলাকায় নদীভাঙনসহ দীর্ঘদিনের নানা সমস্যা রয়েছে। নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং টেকসই সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে পর্যায়ক্রমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জানমাল ও সম্পদ রক্ষায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করা হবে” বলেন তিনি।বিকালে খুলনা জেলা পরিষদের উদ্যোগে রূপসা উপজেলা অফিসার্স ক্লাবে ফলজ গাছের চারা বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, “বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার ৫ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর উদ্যোগ নিয়েছে। রূপসাকে সবুজ ও পরিবেশবান্ধব উপজেলা হিসেবে গড়ে তুলতে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিকে সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করতে হবে।তিনি বলেন, “বিএনপি জনগণের সরকার। জনগণের ভোটে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির পাওয়া সরকারি বরাদ্দের প্রতিটি টাকা জনগণের টাকা। তাই বরাদ্দের অর্থ সঠিকভাবে ব্যয় করতে হবে এবং জনগণকে তার হিসাব বুঝিয়ে দিতে হবে। কোনো ধরনের অনিয়ম, দুর্নীতি বা অপচয় বরদাশত করা হবে না।রূপসাকে আধুনিক, পরিকল্পিত ও মডেল উপজেলা হিসেবে গড়ে তুলতে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ, কৃষি, মৎস্য, নদীভাঙন প্রতিরোধ ও কর্মসংস্থানসহ বিভিন্ন খাতে সমন্বিত উন্নয়নের কথা জানান তিনি। পাশাপাশি মাধ্যমিক, প্রাথমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি মাদ্রাসার একাডেমিক ভবন বাস্তবায়নের উদ্যোগের কথাও বলেন।গাছের চারা বিতরণ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন খুলনা জেলা পরিষদ প্রশাসক ও জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সদস্য সচিব এসএম মনিরুল হাসান বাপ্পি। তিনি বলেন, জনগণের কল্যাণে জেলা পরিষদ কাজ করে যাচ্ছে।এছাড়া উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ভারপ্রাপ্ত মো. মমিনুর রহমান, রূপসা উপজেলা নির্বাহী অফিসার সানজিদা রিকতা,সহকারী কমিশনার ভূমি মো. ইফতেখারুল ইসলাম শামীম, ওসি আব্দুর রাজ্জাক মীর, স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মাজেদুল হক কাউসার, কৃষি কর্মকর্তা তরুন কুমার বালা, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক জিএম কামরুজ্জামান টুকু, জেলা বিএনপির সদস্য আছাফুর রহমান প্রমুখ।এর আগে এমপি হেলাল নৈহাটি ইউনিয়নের বাগমারা শামসুর রহমান মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বার্ষিক ফলাফল ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে যোগ দেন। সেখানে বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা বিএনপির আহবায়ক মনিরুজ্জামান মন্টু ও প্রধান বক্তা ছিলেন জেলা পরিষদ প্রশাসক এসএম মনিরুল হাসান বাপ্পি। আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির আহবায়ক খান জুলফিকার আলী জুলু, মোল্লা খায়রুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির আহবায়ক মোল্লা সাইফুর রহমান, সদস্য সচিব জাবেদ হোসেন মল্লিক, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক আতাউর রহমান রনু প্রমুখ।দুপুরে তিনি নৈহাটি ইউনিয়নের তালিমপুর ফাতেমা তুজজোহরা মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এতে প্রধান বক্তা ছিলেন জেলা পরিষদ প্রশাসক এসএম মনিরুল হাসান বাপ্পি।অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন শেখ আ. রশিদ, আশরাফুল আলম নান্নু, আনিসুর রহমান বিশ্বাস, বিকাশ মিত্র, হুমায়ুন কবির শেখ, শাহনাজ পারভিন, গোলাম মোস্তফা তুহিন, মমিনুর রহমান সাগর, রয়েল আজম, ইলিয়াজ হোসেন, ঘাটভোগ ইউনিয়ন বিএনপির আহবায়ক এসএম আব্দুল মালেক, সদস্য সচিব মিকাইল বিশ্বাস, মহিউদ্দীন মিন্টু সহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
মন্তব্য করুন