নিজস্ব প্রতিনিধি :-
খুলনা, ১৮ অক্টোবর: সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার কুলিয়ায় গত ১৩ অক্টোবর সংঘটিত গণপিটুনিতে ওয়াহিদুজ্জামান শামীম নামে এক যুবক নিহত হওয়ার ঘটনায় দায়েরকৃত হত্যা মামলায় দক্ষিণ পারুলিয়া গ্রামের ফজলুল হক আমিনীকে (৪৫) প্রধান আসামি করে গ্রেফতার করায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে খুলনা জেলা ইমাম পরিষদ। একইসাথে পরিষদ ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও অভিযুক্তের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে।আজ শনিবার খুলনা জেলা ইমাম পরিষদের প্রচার সম্পাদক মোল্লা মিরাজুল হকের পক্ষে গণমাধ্যমে প্রেরিত এক বিবৃতিতে এই দাবি জানানো হয়।বিবৃতিতে বলা হয়, জাতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগকে কেন্দ্র করে শামীমকে গণপিটুনি দেওয়া হয়। পরে তার বড় ভাই আব্দুল জলিল বাদী হয়ে দেবহাটা থানায় হত্যা মামলা করেন। ওই মামলায় পেশায় মোটরসাইকেল ভাড়ায় চালক ফজলুল হক আমিনীকে প্রধান আসামি করা হয়। অভিযোগে বলা হয়েছে, তিনি ফেসবুক লাইভ করে জনতাকে জড়ো করেন। ১৭ অক্টোবর রাতে কালিগঞ্জ থেকে পুলিশ ও RAB-6 এর যৌথ অভিযানে তাকে গ্রেফতার করা হয়। পরবর্তীতে তিনি আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন বলে একটি জাতীয় দৈনিক জানিয়েছে।বিবৃতিতে খুলনা জেলা ইমাম পরিষদের পক্ষ থেকে তিনটি বিষয় সুস্পষ্ট করা হয়—১. নাম বিভ্রাট নিয়ে স্পষ্টীকরণ: গ্রেফতারকৃত ফজলুল হক আমিনী প্রয়াত জাতীয় নেতা মুফতি ফজলুল হক আমিনী (রহ.) [মৃত্যু: ১২ ডিসেম্বর ২০১২] নন। একই নাম হওয়ায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। ইনি দেবহাটার একজন সাধারণ ধর্মপ্রাণ ব্যক্তি।২. নীতিগত অবস্থান: আমরা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সম্মান রক্ষায় আপোষহীন, তেমনি মানুষের জীবন ও ন্যায্য বিচারের অধিকারেও আপোষহীন। ইসলাম ও রাষ্ট্রীয় আইন কোনোটাই গণপিটুনি বা Mob Justice সমর্থন করে না। রাসূল (সা.) এর শানে কটূক্তি মুসলমানের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ ঘটায়, কিন্তু তার বিচারের একমাত্র এখতিয়ার রাষ্ট্রের আদালতের। আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া শরিয়ত ও দণ্ডবিধি উভয় মতে অপরাধ।৩. প্রতিবাদ ও দাবি: ফেসবুক লাইভ করা প্ররোচনা হতে পারে, কিন্তু গণপিটুনিতে শতাধিক লোকের উপস্থিতিতে কে প্রকৃত আঘাতকারী, তা ফরেনসিক ও ভিডিও বিশ্লেষণ ছাড়া নিশ্চিত করা যায় না। একজনকে প্রতীকী আসামি করে প্রকৃত ন্যায়বিচারকে আড়াল করা হলে তা উদ্বেগজনক। তদন্ত ছাড়াই শুধু ধর্মীয় আবেগকে পুঁজি করে একজন নিরপরাধ বা কম দোষী ব্যক্তিকে হত্যা মামলায় ফাঁসানো এবং আইনি সহায়তা থেকে বঞ্চিত করার তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়।পরিষদের দাবি সমূহ:ক. ঘটনার পূর্ণাঙ্গ, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত এবং ভিডিও ফুটেজের ভিত্তিতে প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিতকরণ।খ. অভিযুক্তের শারীরিক ও মানসিক অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে তার জামিন ও বিজ্ঞ আইনজীবীর সাথে পরামর্শের সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিতকরণ।গ. কোনো নিরপরাধ যেন হয়রানির শিকার না হয় এবং গুজব যেন না ছড়ায়, সে বিষয়ে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।বিবৃতিতে আরও বলা হয়, আবেগ নয়, ইনসাফ দিয়ে পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে হবে।মোল্লা মিরাজুল হকপ্রচার সম্পাদকখুলনা জেলা ইমাম পরিষদযোগাযোগ: 01762115064
মন্তব্য করুন