শচীন্দ্র নাথ মন্ডল ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি:খুলনার চালনা পৌরসভার সাতঘরিয়া এলাকার রাস্তা সংস্কার করার সময় পৌরসভার রোলার নষ্ট হয়ে যায়। রোলারটি প্রায় তিন বছর পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে ছিল সাতঘরিয়া এলাকায়। বিকল ওই রোলারটি অসাধু চক্ররা দীর্ঘদিন ধরে অল্প অল্প পরিমানে কেটে বিক্রি করে আসছে। বর্তমান সরকারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে খাল খননের উদ্দেশ্যে হঠাৎ ওই এলাকায় যান চালনা পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. বোরহান উদ্দিন মিঠু। ইউএনও’র উপস্থিতি টের পেয়ে রোলার চুরির অসাধু ব্যক্তিরা পালিয়ে যায়।পৌরসভা সুত্রে জানা গেছে, সাতঘরিয়া এলাকায় প্রায় তিন বছর আগে রাস্তা সংস্কারের সময় রোলারটি নষ্ট হলে পৌরসভার গাড়ির গ্যারেজে নিয়ে আসা সম্ভব হয়নি। ফলে সেখানকার কাউন্সিলরের দায়িত্বে রাখা ছিল। পরবর্তীতে দেশের প্রেক্ষাপট পরিবর্তন হলে কোনো কাউন্সিলর না থাকায় পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে ছিল। অসাধু চোর চক্ররা বিক্রির উদ্দেশ্যে গত রোববার রোলারটি কেটে নিয়ে যাচ্ছিলো। আকস্মিকভাবে পৌর প্রশাসক ও ইউএনও খাল খননের উদ্দেশ্যে ওই এলাকায় পরিদর্শনে গেলে অসাধু চক্ররা তার উপস্থিতি টের পেয়ে রোলার কাটা বাদ দিয়ে পালিয়ে যায়। ফলে পৌর প্রশাসকের হঠাৎ উপস্থিতিতে রক্ষা পেয়ে গেল সরকারি এই সম্পদ।
স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন সকাল থেকে ওই অসাধু চক্ররা রোলারটির ইজারার নাম করে অবৈধভাবে কেটে নিয়ে যাচ্ছিলো। হঠাৎ ইউএনও’র আগমণ ঘটনায় চক্রের সদস্যরা রোলার ফেলে পালিয়ে যায়। তখন বুঝতে পারি এটা অবৈধভাবে কেটে বিক্রি করতে চাচ্ছিল। ইউএনও আসায় সরকারি সম্পদটি অসাধু চক্রদের হাত থেকে রক্ষা পেল। পরে ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ এসে তিনজনকে আটক করে নিয়ে যায়।
এ ব্যাপারে দাকোপ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আতিকুর রহমান বলেন, ঘটনার দিন ইউএনও’র নিদের্শে ঘটনাস্থলে পুলিশ সদস্য পাঠানো হয়। পরে পুলিশ সন্দেহমূলক তিনজনকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। আটকৃতদের জিজ্ঞেসাবাদ করে ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্টতা না থাকায় ছেড়ে দেওয়া হয়। তিনি আরও বলেন, তিনজনের মধ্যে একজন অপ্রাপ্ত বয়সের লোক ছিলো। তবে বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে, এর সঙ্গে প্রকৃতপক্ষে যারা জড়িত তাদেরকে খুঁজে বের করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।জানতে চাইলে চালনা পৌরসভার প্রশাসক ও ইউএনও মো. বোরহান উদ্দীন মিঠু বলেন, বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের লক্ষে সাতঘরিয়া এলাকার খাল খননের উদ্দেশ্যে ঘটনার দিন ওই এলাকায় যায়। আমাকেআসতে দেখে অসাধু ব্যক্তিরা রোলার কাটা বাদ দিয়ে পালিয়ে চলে যায়। পরে আমার সন্দেহ হলে থানা পুলিশকে অবহিত করি এবং এর সঙ্গে জড়িতদের ধরতে নির্দেশ দিয়ে থাকি। পুলিশ সন্দেহজনকভাবে তিনজনকে আটক করে তবে তারা এর সঙ্গে জড়িত না থাকায় ছেড়ে দেওয়া হয়। এ ব্যাপারে পৌরসভার পক্ষ থেকে আইন গতব্যাবস্হা নেওয়া জন্য প্রক্রিয়াধীন রয়েছে । ##
শচীন্দ্র নাথ মন্ডল
দাকোপ খুলনা
তাং৮/৩/২৬
মন্তব্য করুন