এম আবু হেনা সাগর, ঈদগাঁও
কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলার কার্যক্রম শুরুর প্রায় পাঁচ বছর অতিবাহিত হতে চললেও এখনো কোনো প্রশাসনিক অবকাঠামো গড়ে ওঠেনি। ভাড়া ভবনে কয়েকটি অফিসের কার্যক্রম চললেও অধিকাংশ সেবা আগের কক্সবাজার সদর উপজেলা থেকে নিতে গিয়ে চরম ভোগান্তিও হয়রানির শিকার হচ্ছে এলাকা বাসী। দীর্ঘদিন থেকে দেশে লবণের চাহিদা মেটানোর সর্ববৃহৎ লবণশিল্প এলাকা ইসলামপুর, উপকূলজুড়ে চিংড়ি ঘের, পার্বত্য এলাকা ও সৈকত নগরী কক্সবাজারের প্রবেশ দ্বার ও পাহাড় সমতলবেষ্টিত বৃহত্তর ঈদগাঁওকে পৃথক উপজেলা বাস্তবায়নের দাবি ছিল।
বিগত আওয়ামী সরকারের সময় প্রায় পাঁচ বছর আগে কক্সবাজার সদর উপজেলা থেকে পৃথক হয়ে পাঁচ ইউনিয়ন নিয়ে ঈদগাঁও উপজেলার প্রশাসনিক কার্যক্রম ভাড়া করা ভবনে শুরু হলেও এখন পর্যন্ত উপজেলায় কোনো অবকাঠামো গড়ে ওঠেনি। অধিকাংশ সেবা আগের কক্সবাজার সদর উপজেলা থেকে নিতে হচ্ছে অত্র উপজেলাবাসীকে। এতে পৃথক উপজেলা হওয়ার পরও জনভোগান্তির অন্ত নেই।বিশেষ করে উপজেলার প্রশাসনিক ভবন ও অধিকাংশ দপ্তরের স্থায়ী অবকাঠামো গড়ে না ওঠায় অত্র উপজেলার বিভিন্ন পদের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এখানে পোস্টিং নিতে কিংবা থাকতে অগ্রহী হন না। ভাড়া করা ভবনে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয় এবং হাতেগোনা কয়েকটি দপ্তর ছাড়া অধিকাংশ দপ্তর এখনো কক্সবাজার সদর উপজেলার কর্মকর্তাদের অতিরিক্ত দায়িত্বে এখানে পরিচালিত হচ্ছে। এ কারণে উপজেলার জনগণ এখনো আগের মতো অনেকটা সেবাবঞ্চিত।উপজেলার অতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমি অফিস স্থাপন হয়নি বিধায় এখনো পৃথক সহকারী কমিশনার (ভূমি) অত্র উপজেলার জন্য পদায়ন হয়নি। উপজেলার কার্যক্রম শুরুর পর থেকে অতিরিক্ত দায়িত্বে আগের উপজেলার সহকারী কমিশনার কে (ভূমি) অতিরিক্ত দায়িত্ব নিতে গিয়ে সেখান কার অফিসে অত্র উপজেলার কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।এছাড়া পূর্বনির্ধারিত জায়গা থাকলেও এখনো অদৃশ্য কারণে গড়ে ওঠেনি উপজেলার প্রশাসনিক স্থাপনা, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, উপজেলা ভূমি অফিস, ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স, আধুনিক মসজিদ কমপ্লেক্স, উপজেলা ক্যাটাগরিভিত্তিক স্কুল-কলেজ জাতীয়করণসহ জনগুরুত্বপূর্ণ অনেক অফিসের কার্যক্রম। এজন্য উপজেলা বাস্ততবায়নের পাঁচ বছর অতিবাহিত হলেও শূন্য অবকাঠামো ও জনবলের অভাবে উপজেলার প্রকৃত স্বাদ ও সেবার সুফল এলাকাবাসী পাচ্ছেনা।
ঈদগাঁও সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সোহেল জাহান চৌধুরী, জালালাবাদ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আলমগীর তাজ জনি, ইসলামপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসাইন এবং ইসলামাবাদ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) নুরুল ইসলাম বলেন, উপজেলার কার্যক্রম প্রায় পাঁচ বছর আগে শুরু হলেও এখনো স্থায়ী কোন অবকাঠামো গড়ে ওঠেনি। তাই জরুরি ভিত্তিতে সব অফিস চালুর দাবী জানান।
মন্তব্য করুন