নিজেস্ব প্রতিনিধি:একটি উত্তাল সময় বুকে নিয়ে নতুন বছরে পা দিল লাল-সবুজের বাংলাদেশ। এ মুহূর্তে গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী বাস্তবতায় রাষ্ট্র সংস্কার, জাতীয় নির্বাচন, গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও শিক্ষাঙ্গনের ভবিষ্যৎ নিয়ে দেশজুড়ে চলছে নতুন করে ভাবনা। এই সন্ধিক্ষণে ছাত্রসমাজের ভূমিকা ও দায়িত্ব নিয়ে আলোচনা জমেছে অনেক।এমন প্রেক্ষাপটে নতুন বছর ২০২৬ ঘিরে ইসলামী (রাজনৈতিক) ছাত্রসংগঠনগুলোর শীর্ষ নেতারা তুলে ধরেছেন তাদের রাজনৈতিক, সামাজিক ও নৈতিক প্রত্যাশার কথা। রাষ্ট্র সংস্কার থেকে শুরু করে শিক্ষাঙ্গনে সহিংসতা রোধ, ইনসাফভিত্তিক সমাজ গঠন ও আদর্শিক ছাত্ররাজনীতির পুনরুদ্ধার—নতুন বছরে কী ভাবছেন তারা, সে কথাই উঠে এসেছে এই প্রতিবেদনে।২০২৬ আমাদের কাছে নিছক সময়ের আবর্তন নয়, এটি চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের প্রতি জাতির অঙ্গীকার বাস্তবায়নের এক ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণ। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান ছিল ফ্যাসিবাদ, আধিপত্যবাদ ও জুলুমের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর এক দুঃসাহসিক অভিযাত্রার প্রারম্ভিকতা। এর চূড়ান্ত রূপ তখনই বাস্তবায়িত হবে, যখন গুম, খুন, নির্যাতন ও রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের সঙ্গে জড়িত সকল অপরাধীর নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত এবং রাষ্ট্রের আমূল সংস্কার হবে। ঘুণে ধরা এই সমাজের মূলোচ্ছেদ করে ইনসাফভিত্তিক এক মানবিক সমাজ প্রতিষ্ঠা হবে। মনে রাখতে হবে, ইনসাফ প্রতিষ্ঠা কোনো রাজনৈতিক অনুগ্রহ নয়; বরং রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব।দীর্ঘ প্রায় ১৫ বছর পর জনগণের প্রকৃত ইচ্ছা প্রতিফলিত হয় এমন একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য জাতীয় নির্বাচন এবং গণভোটে জনগণের ‘হ্যাঁ’ বিজয়ের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় সংস্কারের দ্রুত বাস্তবায়ন নতুন বছরের অন্যতম দাবি। পতিত স্বৈরাচারী লুটেরাদের বিদেশে পাচার করা লক্ষ কোটি টাকা দেশে ফিরিয়ে এনে কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও সামাজিক কল্যাণে ব্যয় করতে হবে। সকল প্রকার অনিয়ম ও অসাধু উপায়ের মূলোচ্ছেদ করে নিশ্চিত করতে হবে, যাতে বাংলাদেশকে আর কখনো দুর্নীতিপরায়ণ রাষ্ট্র হিসেবে লজ্জাজনক তকমা বহন করতে না হয়।আমরা চাই, সীমান্তে হত্যা বন্ধে দৃঢ় কূটনৈতিক অবস্থান ও শক্তিশালী পররাষ্ট্রনীতি, ফারাক্কা ও তিস্তাসহ সব অভিন্ন নদীর ন্যায্য হিস্যা আদায়। বিজাতীয় সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় সচেতনতা ও মাদকের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা। বাকস্বাধীনতার নামে মিথ্যা অপপ্রচার ও সাইবার বুলিং বন্ধে যথাযথ পদক্ষেপ এবং স্বাধীন, দায়িত্বশীল ও দলীয় লেজুড়বৃত্তিহীন সংবাদমাধ্যম আমরা দেখতে চাই। সর্বোপরি, জাতীয় ঐক্যের মাধ্যমে ইসলামী মূল্যবোধ ও নৈতিক শিক্ষার আলোয় দুর্নীতিমুক্ত, বৈষম্যহীন ও বেকারত্বমুক্ত একটি মানবিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার জন্য সৎ, দক্ষ ও দেশপ্রেমিক নাগরিক তৈরি করা নতুন বছরে আমাদের দৃঢ় অঙ্গীকার।মুনতাছির আহমাদকেন্দ্রীয় সভাপতি, ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ২০২৬ সাল বাংলাদেশের ছাত্ররাজনীতির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণ। স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে ছাত্ররাজনীতির নামে অপরাজনীতি চর্চা, শিক্ষাঙ্গনে সহিংসতা, দলদাসত্বের লেজুড়বৃত্তি ও স্বার্থান্বেষী রাজনীতির ফলে ছাত্রসমাজ তার স্বাভাবিক ও ঐতিহাসিক ভূমিকা থেকে বিচ্যুত হয়েছে। এর কারণে ছাত্ররাজনীতির ইতিবাচক ও মৌলিক ভিত্তি ক্রমশ উপেক্ষিত হয়ে পড়েছে। এই বাস্তবতায় ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ মনে করে, ছাত্ররাজনীতির আদর্শিক দর্শন পুনরুদ্ধার এখন সময়ের অপরিহার্য দাবি।একজন ছাত্র সংগঠনের প্রতিনিধি হিসেবে নতুন বছরে আমার প্রত্যাশা হলো, ক্যাম্পাস হবে জ্ঞানচর্চা ও মতপ্রকাশের উন্মুক্ত প্রাঙ্গণ। সহিংসতার সংস্কৃতি পরিহার করে নীতি, আদর্শ ও দায়বদ্ধতাভিত্তিক রাজনীতির চর্চা গড়ে উঠবে। কোরআন-সুন্নাহভিত্তিক মূল্যবোধের আলোকে ন্যায়, দায়িত্ববোধ ও মানবিকতার শিক্ষা ছাত্রসমাজকে ইতিবাচক ধারায় ফিরিয়ে আনবে। একই সঙ্গে ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ দাওয়াতি কার্যক্রম ও ন্যায়ের সংগ্রামের মাধ্যমে শিক্ষাঙ্গনে এক নবজাগরণ সৃষ্টি করবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।মুহাম্মদ রায়হান আলী কেন্দ্রীয় সভাপতি, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র মজলিসঅতিক্রান্ত বছরের বিদায় ও নতুন বছরের আগমন কেবল সময়ের পরিবর্তন নয়; বরং এটি আত্মসমালোচনা, আত্মশুদ্ধি এবং আদর্শিক অঙ্গীকার নবায়নের গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। বিশেষত ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী বাস্তবতায় ছাত্রসমাজ ও রাষ্ট্র নিয়ে আমাদের প্রত্যাশা নতুন করে বিন্যস্ত হওয়া জরুরি। আমরা যে ন্যায়ভিত্তিক, নিরাপদ ও সহাবস্থানের ছাত্ররাজনীতির স্বপ্ন দেখেছিলাম, বাস্তবে তার পূর্ণ প্রতিফলন এখনো দেখা যায়নি। শিক্ষাঙ্গনে নৈতিক অবক্ষয়, সহিংসতার আশঙ্কা, ভিন্নমত দমনের অপচেষ্টা ও শিক্ষার্থীবান্ধব সিদ্ধান্তের অভাব তরুণদের হতাশ করেছে।নতুন বছরে আমরা প্রত্যাশা করি, বিশ্ববিদ্যালয়সহ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হবে জ্ঞানচর্চা, যুক্তিবাদী বিতর্ক ও নিরাপদ মতপ্রকাশের উন্মুক্ত ক্ষেত্র। ছাত্ররাজনীতি ক্ষমতাকেন্দ্রিক নয়, হবে ইনসাফভিত্তিক, আদর্শনির্ভর ও মানবিক।বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র মজলিস মনে করে, ইসলাম কেবল ইবাদতের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি ন্যায়, মানবিকতা, জবাবদিহিতা ও রাষ্ট্রগঠনের পূর্ণাঙ্গ দিকনির্দেশনা। আমরা এমন ছাত্রসমাজ গড়ে তুলতে চাই, যারা নৈতিকতায় দৃঢ়, অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার এবং রাষ্ট্রের প্রতি দায়বদ্ধ।শহীদ আবরার ফাহাদ, জুলাই বিপ্লবের শহীদ আবু সাঈদ, মীর মুগ্ধ ও শরিফ ওসমান হাদিরা যে ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখিয়ে গেছেন—নতুন বছরে সেই বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ই হোক আমাদের অঙ্গীকার। ২০২৬ সালে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে ‘নতুন সরকার নতুন দেশ, ইনসাফ ভিত্তিক বাংলাদেশ’—এটি আমাদের প্রত্যাশা।রিদওয়ান মাযহারী নতুন বছরে তরুণ প্রজন্ম, বিশেষ করে ছাত্র রাজনীতির বার্তা বাহকদের করণীয় হিসেবে আমি দায়িত্ব ও নৈতিকতার বার্তা হিসেবে দুটি কথা বলতে চাই।আমার মতে, ছাত্রসংগঠনের কাজ দুই শব্দে—পড়া এবং গড়া। পড়ার মধ্যে রয়েছে, দ্বীনি ও বিশ্বরাজনৈতিক জ্ঞান, সমসাময়িক সমাজবিজ্ঞান, বিজ্ঞানসম্মত বোধ এবং প্রতিষ্ঠানগত কাঠামো বোঝা।অন্যদিকে গড়ার মধ্যে রয়েছে, চরিত্র, দক্ষতা ও আত্মিকতার উন্নয়ন। এটি অর্জন হয় অবিরাম ইনার স্ট্রাইভিং বা আত্মসংগ্রামে
মন্তব্য করুন