মোল্লা জাহাঙ্গীর আলম //অপরাধের অন্ধকার ছেড়ে আলোর পথে ফেরা খুলনার রূপসা উপজেলার মো. নুরুল বাছেদ সিকদার এখন নতুন করে ষড়যন্ত্রের শিকার। এক সময় সুন্দরবনের জলদস্যু জীবনের সঙ্গে জড়িত থাকলেও ভুল বুঝতে পেরে তিনি র্যাবের কাছে আত্মসমর্পণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফেরেন।রূপসার আলাইপুর গ্রামের বাসিন্দা বাছেদ বর্তমানে চাষাবাদ ও মাছ চাষ করে সৎভাবে সংসার চালাচ্ছেন। পরিবার ও এলাকাবাসীর সহযোগিতায় তিনি নিজেকে একজন শান্তিপ্রিয় মানুষ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। এলাকাবাসীর ভাষায়, “যে মানুষটা ভুল পথ ছেড়ে ভালো হয়েছে, তাকে সমাজ বুকে টেনে নিয়েছে।কিন্তু যখন তার জীবন ধীরে ধীরে স্বাভাবিক ছন্দে ফিরছিল, তখনই পুরনো সেই অন্ধকার অতীতকে নতুন করে সামনে এনে বিভ্রান্তিকর সংবাদ ছড়ানো শুরু হয় কয়েকটি মাধ্যমে।অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, এসব সংবাদের পেছনে রয়েছে এক সময়ের অস্ত্র ব্যবসায়ী চক্র। বাছেদ যখন জলদস্যু ছিলেন, তখন তার কাছে চড়া দামে অবৈধ অস্ত্র বিক্রি করত এই চক্র। কিন্তু তিনি আত্মসমর্পণ করে অপরাধ ছেড়ে দেওয়ায় তাদের ব্যবসা ভেঙে পড়ে। এখন বাছেদকে মানসিকভাবে চাপে রেখে আবার অন্ধকার জগতে ফিরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে বলেই অভিযোগ স্থানীয়দের।আরও চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, সংবাদে যাদের ‘সাক্ষী’ হিসেবে দেখানো হয়েছে, তারা নিজেরাই দাবি করছেন এ বিষয়ে কিছুই জানেন না। তাদের একজন বলেন, নুরুল বাছেদ এখন খুবই ভালো মানুষ। সৎ পথে কষ্ট করে সংসার চালাচ্ছেন। তাকে নিয়ে যা লেখা হচ্ছে, সব মিথ্যা ও বানোয়াট।আলাইপুরের সাধারণ মানুষ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরাও বাছেদের পক্ষে কথা বলেছেন। তাদের দাবি, একজন মানুষ ভুল শুধরে সমাজে ফিরে এলে তাকে সহযোগিতা করা উচিত, নতুন করে হয়রানি করা নয়। এলাকাবাসীর বক্তব্য, রাষ্ট্রের আহ্বানে সাড়া দিয়ে যে মানুষ অপরাধ ছেড়েছে, তাকে আবার অপরাধের দিকে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। তারা দাবি জানিয়েছেন, এই মিথ্যা প্রচারের পেছনে থাকা অস্ত্র ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট ও তাদের সহযোগীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হোক।এলাকার সচেতন মহল বলছে, আলোয় ফেরা মানুষকে এভাবে ষড়যন্ত্রের শিকার করা হলে ভবিষ্যতে আর কেউ অপরাধ ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে সাহস পাবে না।
মন্তব্য করুন