নিজস্ব প্রতিবেদক:
দীর্ঘদিনের অবহেলা, কাদা-পানি আর সীমাহীন ভোগান্তির অধ্যায়ের অবসান ঘটতে যাচ্ছে খুলনার তেরখাদা উপজেলার বারাসাত ও পানতিতা এলাকায়। বহু প্রতীক্ষিত একটি নতুন রাস্তা নির্মাণের মাধ্যমে যোগাযোগ ব্যবস্থায় আসছে আমূল পরিবর্তন। প্রায় দুই কিলোমিটার দীর্ঘ এই রাস্তা এখন এলাকাবাসীর কাছে শুধু একটি উন্নয়ন প্রকল্প নয়, বরং বহু বছরের স্বপ্নপূরণের প্রতীক হয়ে উঠেছে।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বারাসাত শিকদার বাড়ি থেকে বিল অভিমুখে পানতিতা গ্রামের গাউস মোল্লার বাড়ি পর্যন্ত দীর্ঘদিন কোনো চলাচলযোগ্য রাস্তা ছিল না। ফলে কৃষক, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষকে বছরের পর বছর সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। বর্ষা মৌসুমে কাদা ও পানির কারণে চলাচল প্রায় অচল হয়ে পড়ত। কৃষিপণ্য পরিবহন, শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাতায়াত এবং জরুরি প্রয়োজনে চলাচল ছিল অত্যন্ত কষ্টসাধ্য।
এ অবস্থায় স্থানীয় মানুষের দীর্ঘদিনের দাবিকে সামনে রেখে উদ্যোগী ভূমিকা পালন করেন উপজেলা জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাবেক প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও বিএনপি নেতা মো. বিল্লাল হোসেন। তিনি এলাকাবাসী এবং জমির মালিকদের নিয়ে ধারাবাহিক বৈঠক, আলোচনা ও মতবিনিময়ের মাধ্যমে রাস্তা নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করেন। তার প্রচেষ্টায় দীর্ঘদিনের জনদাবি বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে যায়।
তবে এই উদ্যোগ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় অবদান রেখেছেন স্থানীয় জমির মালিকরা। জনস্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে তারা স্বেচ্ছায় নিজেদের মূল্যবান জমি রাস্তার জন্য ছেড়ে দিতে সম্মত হন। জমিদাতাদের মধ্যে রয়েছেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব এফ এম হাবিবুর রহমান, বিএনপি নেতা টিপু মোল্লা, সমাজসেবক দেলোয়ার হোসেন দিলু, তাকিদুল মোল্লা, সাইফুল শিকদার, রসূল শেখ, রফিকুল শিকদার, নাজমুল শিকদার, কাকা শিকদার, লাবু শিকদার, লিয়াকাত শিকদার, শরিফুল শিকদার, মনু শিকদার, বাবুল শিকদার, রজব আলী শিকদার, ফারুক শেখ, মনি শেখ, ফরিদ মোল্লা, এবাদুল শেখ, কুদ্দুস শেখ, কচি মিনা, মিঠু মোল্লা, আলম শেখ, গাউস মোল্লা, খোকা শেখ, ফারুক শিকদার, মফিজ শিকদার, ইনাম মোল্লা, ইকবাল শিকদার, জিবুল শিকদার, বাচ্চু মল্লিকসহ প্রায় ৪০ থেকে ৫০ জন ব্যক্তি। তাদের এই জনকল্যাণমূলক সিদ্ধান্তেই রাস্তা নির্মাণের পথ সুগম হয়।
পরে বিষয়টি খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য এস কে আজিজুল বারী হেলালের নজরে আনা হলে তিনি দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেন এবং রাস্তা নির্মাণে সরকারি বরাদ্দ নিশ্চিত করতে কার্যকর উদ্যোগ নেন। স্থানীয়দের ভাষ্য, এমপি হেলালের আন্তরিকতা ও সহযোগিতার ফলেই দীর্ঘদিনের এই প্রত্যাশিত উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের পথে দৃশ্যমান অগ্রগতি অর্জন করেছে।এ বিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা হানিফ শিকদার বলেন, “আমি সরেজমিনে রাস্তার কাজ পরিদর্শন করেছি। গুরুত্বপূর্ণ এই রাস্তার জন্য সরকারি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এবং কাজ সন্তোষজনক গতিতে এগিয়ে চলছে। কাজ সম্পন্ন হলে এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের যোগাযোগ সমস্যা দূর হবে এবং কৃষি ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।”
স্থানীয় সূত্র জানায়, বর্তমানে রাস্তার প্রায় ৭০ শতাংশ নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়েছে। অবশিষ্ট কাজও দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। কাজ শেষ হলে বারাসাত ও পানতিতা এলাকার হাজারো কৃষক সহজে কৃষিপণ্য পরিবহন করতে পারবেন। পাশাপাশি শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের যাতায়াতে আসবে যুগান্তকারী পরিবর্তন।
রাস্তার নামকরণ নিয়েও স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা হয়েছে। স্থানীয় বিএনপি নেতা টিপু মোল্লা রাস্তার নাম এমপি এস কে আজিজুল বারী হেলালের নামে রাখার প্রস্তাব দিলে এলাকাবাসী, জমিদাতা ও সংশ্লিষ্টদের সর্বসম্মত মতামতের ভিত্তিতে বিষয়টি অনুমোদিত হয় বলে জানা গেছে।স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিনের কষ্ট, ভোগান্তি ও বিচ্ছিন্নতার অবসান ঘটিয়ে এই রাস্তা তাদের জীবনে নতুন আশার আলো জ্বালিয়েছে। তারা খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য এস কে আজিজুল বারী হেলাল, স্থানীয় বিএনপির নেতৃবৃন্দ এবং রাস্তার জন্য জমি প্রদানকারী সকল ব্যক্তির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
এলাকাবাসীর মতে, এই রাস্তা শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়; এটি বারাসাত ও পানতিতা এলাকার অর্থনৈতিক, সামাজিক ও কৃষিভিত্তিক উন্নয়নের নতুন ভিত্তি। জনস্বার্থে জমি দান, স্থানীয় নেতৃত্বের উদ্যোগ এবং সরকারি সহযোগিতার সমন্বয়ে বাস্তবায়িত এই প্রকল্প এখন তেরখাদায় উন্নয়ন, ঐক্য ও জনকল্যাণের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।
উল্লেখ্য, গত ১৪ জুন দক্ষিণ পশ্চিম অঞ্চলের সর্বাধিক প্রচারিত “দৈনিক পূর্বাঞ্চল”সহ কয়েকটি অনলাইন নিউজ পোর্টালে ভুলক্রমে “এমপির নামে নির্মিত হচ্ছে নতুন রাস্তা” শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল। প্রকৃতপক্ষে রাস্তা কোনো ব্যক্তির নামে নির্মিত হচ্ছে না; বরং খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য এস কে আজিজুল বারী হেলালের উদ্যোগ, সহযোগিতা ও আন্তরিক প্রচেষ্টায় বাস্তবায়িত হচ্ছে এই গুরুত্বপূর্ণ জনকল্যাণমূলক রাস্তা নির্মাণ প্রকল্প।
মন্তব্য করুন