৬ অগাস্ট ২০২৬, ২:১৮ অপরাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

ত্রাণ চাই না, নদী বাঁচাও, টিআরএম চালু করো” — ভবদহ বিল ও স্লুইস গেটে জীবনের দুর্ভোগ

শেখ মাহতাব হোসেন ডুমুরিয়া খুলনা

দক্ষিণাঞ্চলের ‘দুঃখ’ বলে পরিচিত ভবদহ বিল এলাকা ও ২১ ভেন্ট স্লুইস গেট চত্বরে পা রাখতেই চোখে পড়ে এক করুণ দৃশ্য। একদিকে পলি জমে স্তব্ধ হতে বসা নদীর গতিপথ, অন্যদিকে কপাটের জং ধরা কাঠামো। বর্ষা মৌসুম এলেই অভয়নগর, মণিরামপুর ও কেশবপুরের শত শত গ্রামের মানুষের চোখ থেকে ঘুম কেড়ে নেয় জলাবদ্ধতা।সম্প্রতি সরেজমিনে ভবদহ স্লুইস গেট এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, স্লুইস গেটের পলি সরাতে সেনাবাহিনীর তদারকিতে ড্রেজিং চললেও স্থানীয়দের মনে স্থায়ী সমাধান নিয়ে এখনো রয়ে গেছে চরম সংশয়।স্লুইস গেটের ওপর দাঁড়িয়ে কথা হয় ডুমুরিয়া এলাকার ষাটোর্ধ্ব প্রবীণ কৃষক অখিল দাসের সাথে। জীবনের বহু সময় ধরে এই অভিশপ্ত জলাবদ্ধতার সাথে লড়াই করে চলছেন তিনি। প্রতিবেদক: অখিল কাকা, ভবদহ স্লুইস গেটের এখন যে অবস্থা দেখছেন, এতে কি আপনাদের দুর্ভোগ কিছুটা কমছে?অখিল দাস: (গভীর দীর্ঘশ্বাস ফেলে) “বাপু, গেটের কপাট দু-একটা খোলা থাকলেও পলি জমে নদীর তলা উঁচু হয়ে গেছে। উজুড়ে পানি নামবে কীভাবে? পাম্প দিয়ে পানি সেচে সাময়িক ধান চাষের চেষ্টা করা হয় বটে, কিন্তু এক পশলা ভারী বৃষ্টি হলেই বিলের পর বিল ভেসে যায়। আমরা ত্রাণ চাই না, আমরা স্থায়ী মুক্তি চাই।”প্রতিবেদক: পানি উন্নয়ন বোর্ড তো নদী খনন আর কোটি কোটি টাকার প্রকল্প চালাচ্ছে। আপনাদের মূল দাবিটা আসলে কী? অখিল দাস: “পানি বোর্ডের এই ঠিকাদারদের খননে আমাদের কিস্যু লাভ হয় না। পলি তো নদী কেটে ঠেকানো যাবে না! কুদরতি নিয়ম না মানলে ভবদহের মুক্তি নেই। একমাত্র উপায় হলো বিলে বিলে ‘টিআরএম’ (জোয়ার-ভাটা ব্যবস্থাপনা) চালু করা। জোয়ারের সাথে পলি বিলে ঢুকুক, বিলে পলি জমে উঁচু হোক আর নদী নাব্য থাকুক। নদী বাঁচার রাস্তা না দিলে আমাদের পুরো অঞ্চল একদিন মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাবে।” প্রতিবেদক: প্রশাসনের প্রতি আপনাদের বার্তা কী?অখিল দাস: “আমরা একটাই কথা বলি—প্রকল্পের নামে টাকা নষ্ট না করে মানুষের কথা শুনুক। আন্দোলন করতে করতে আমাদের চুল পেকে গেল। কপাট আর গেট নয়, নদীকে নিজের পথে চলতে দেওয়া হোক। আমরা শান্তিতে বাস করতে চাই, নিজেদের জমিতে সোনার ফসল ফলাতে চাই।”প্রতিবেদকের টীকা: দীর্ঘ সাড়ে চার দশকের এ সংকটের স্থায়ী সমাধানে সাময়িক পাম্পিং বা অপরিকল্পিত খনন যথেষ্ট নয়। স্থানীয় কৃষিজীবী ও ভুক্তভোগীদের সাথে একাত্ম হয়ে বিজ্ঞদের মতামত—প্রাকৃতিক নদী ব্যবস্থাপনা (টিআরএম) নিশ্চিত না করলে ভবদহের অভিশাপ চিরতরে মোছা সম্ভব নয়।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

খুলনা জেলা বটিয়াঘাটা একদিনের ব্যবধানে আবারো যুবদল নেতা বাদল হাওলাদারের বুকে গুলি,গুরুতর জখম, খুলনা মেডিকেলে ভর্তি:

১

খুলনা জেলা পরিষদের সাবেক প্রশাসনিক কর্মকর্তা দুর্নীতিবাজ মাহাবুবুর রহমান বিরুদ্ধে দুদকের মামলা:

২

ধামইরহাটে আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা

৩

ধামইরহাটে দলীয় করনের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন

৪

ডুমুরিয়ায় মানকচু বাম্পার ফলন: কৃষকের মুখে হাসির ঝিলিক

৫

প্রধানমন্ত্রীর আগমনের পূর্ব প্রস্তুতিতে খুলনা জেলায় অবস্থিত স্টেডিয়াম সমূহ পরিদর্শন করেন : যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মোঃ আমিনুল হক এমপি

৬

দুদকের মামলা, বাদ পড়লেন অর্থ ছাড়ের নেপথ্যে ভূমিকা রাখা কেডিএ’র দুই চেয়ারম্যান, সচিব ও সদস্যরা

৭

ডুমুরিয়ায় পরকীয়ার জেরে রক্তক্ষয়ী হামলার অভিযোগ! দায়ের কোপে পরিমল গুরুতর, রবীনসহ আহত ৪ • খুলনা মেডিকেলে একজন, এলাকায় উত্তেজনা

৮

ঈদগাঁওতে ব্যাংক থেকে টাকা উধাও, থানায় জিডি 

৯

শুভ জন্মদিন ব্যারিস্টার জায়মা রহমান।

১০

কেশবপুরে যাত্রীবেশে বৃদ্ধকে কুপিয়ে ব্যাটারি চালিত ভ্যান নিয়ে গেল দুর্বৃত্ত

১১

যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী সফল করার লক্ষ্যে কেশবপুরে প্রস্তুতি সভা।

১২

কেশবপুরে ৮ দলীয় হাডুডু (কাবাডি) টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত।

১৩

তৃণমূল জাগপা’র প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান সমন্বয়ক নিজামদ্দিন আমিতের নিন্দা ও প্রতিবাদঃ

১৪

দাকোপ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গাইনি সহ গুরুত্বপূর্ণ পদে ডাক্তার না-থাকায় চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের মারাত্মক দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

১৫

জনপ্রিয়তার শীর্ষে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আলমগীর, দিলেন উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি।

১৬

ঈদগাঁও-ঈদগড় সড়কে গণডাকাতির ঘটনায় সন্দেহ ভাজন গ্রেফতার -১ 

১৭

থুকড়া বাজার বায়তুস সালাম কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের নতুন কমিটি ঘোষণা সভাপতি নুরুজ্জামান কিসলু, সম্পাদক আফজাল হোসেন, কোষাধ্যক্ষ মামুন পারভেজ।

১৮

থুকড়া বাজার বায়তুস সালাম কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের নতুন কমিটি ঘোষণা সভাপতি নুরুজ্জামান কিসলু, সম্পাদক আফজাল হোসেন, কোষাধ্যক্ষ মামুন পারভেজ

১৯

পাইকগাছা জনতা ব্যাংকে গ্রাহক হয়রানির অভিযোগ।

২০