Bntv245487
২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১:৩০ পূর্বাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

দাকোপ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গাইনি সহ গুরুত্বপূর্ণ পদে ডাক্তার না-থাকায় চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের মারাত্মক দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

শচীন্দ্র নাথ মন্ডল দাকোপ খুলনা প্রতি নিধি :- খুলনার দাকোপ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গাইনি ও অ্যানেস্থেসিয়া (অজ্ঞান করার) ডাক্তারের তীব্র সংকট রয়েছে। ফলে সিজারিয়ান অপারেশনসহ প্রসূতি সেবা পেতে রোগীদের মারাত্মক দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে এবং অনেক সময় বাধ্য হয়ে রোগীদের অনেক টাকা খরচ করে বাইরে প্রাইভেট ক্লিনিকে বা খুলনা সদরে যেতে হচ্ছে।
বর্তমান পরিস্থিতির প্রধান বিষয়সমূহচিকিৎসক সংকট: হাসপাতালটিতে নিয়মিত গাইনি ও অ্যানেস্থেসিয়া বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের ঘাটতি রয়েছে।রোগীদের ভোগান্তি: প্রসূতি মায়েরা জরুরি মুহূর্তে সিজারের প্রয়োজন হলে সঠিক সময়ে চিকিৎসক না পেয়ে চরম ঝুঁকিতে পড়েন। প্রশাসনিক পরিবর্তন: সম্প্রতি দাকোপ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সুদীপ কুমার বালাকে বদলি করা হয়েছে, যা নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে। বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে দাকোপ হাসপাতালে সেবা নিতে আসা প্রসূতি সহ জটিল রোগীদের উন্নত চিকিৎসার জন্য অনেক টাকা খরচ করে প্রাইভেট ক্লিনিকে যেতে হচ্ছে। এমন অবস্থা চলতে থাকলে অসহায় গরীব প্রসূতি মায়েদের স্বাস্থ্য সেবা ঝুকিতে পড়বে এমন অভিযোগ সকালের।স্বাধীনতার পর থেকেই সরকারের তৃনমুল পর্যায়ে মানুষের স্বাস্থ্যসেবা দিতে এ প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে ৫০ শষ্যা বিশিষ্ট একটি হাসপাতালে রুপ নিয়েছে। ১৯৭৩ সালে সাত একর জায়গায় ৩১ শষ্যাবিশিষ্ট প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০০৩ সালের সরকারি অনুমোদন পেলেও ২০০৭ সালে ৩১ শষ্যা থেকে কায্যক্রম শুরু হয় ৫০ শয্যার। এই হাসপাতালে প্রসূত ও আ্যানেসথেসিয়া বিশেষজ্ঞ নেই। চিকিৎসকের সংখ্যা ৪১টি এখনো পদ শুন্য রয়েছে ২২টি।১৯ বছর উর্ত্তীন হলেও ৫০ শষ্যার জন বল নেই।এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি দাকোপ উপজেলায় হলেও ভৌগোলিক অবস্থার আবস্হান গত দিক থেকে পাশ্ববর্তী উপজেলা রামপাল, বটিয়াঘাটা, পাইকগাছ ও কয়রার রোগীরা রাস্তা ও নদী পথে এখানে স্বাস্থ্যসেবা দিতে চলে আাসে। যে কারণে মাসের অধিকাংশ দিনে রোগীর সংখ্যা কোনো কোন সময় ১শ থেকে ২০০ শো ছাড়িয়ে যায়। তখন রোগীরা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এর বারান্দায় সহ খালি স্হানে অবস্হান নেয়।প্রঙ্গত ৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের জন্য যেখানে প্রর্যাপ্ত চিকিৎসক ও জন বল না থাকায় কঠিন সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে।স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে জানা যায়,২১৬ টি পদের বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত আছে ১২৫ জন।এখনো পদ শুন্য আছে ৯১টি।এর মধ্যে চিকিৎসকের ৪১ টি পদের মধ্যে ২২টি শুন্য। এখানে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃপঃ কর্মকর্তা পদে একজন আছে।জুনিয়র কন্সালটেন্ট পদের সংখ্যা ১০ জন সেখানে রয়েছে ৪ জন। মেডিকেল অফিসার ও সমমানের পদ সংখ্যা ৩০ টির স্থলে আছে ১৪ জন ।মাঠপর্যায়ের চিকিৎসকের পদ আছে ৮০টি, কর্মরত আছেন ৫৭ জন।নার্সের ৩৪ টি পদের বিপরীতে আছে ৩২ জন।স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা কর্মকর্তা, জুনিয়র কনসালট্যান্ট (কার্ডিওলজি), জুনিয়র কনসালট্যান্ট (প্রসূতি) ও জুনিয়র কনসালট্যান্ট (অ্যানেসথেসিয়া) পদে বর্তমানে কোনো চিকিৎসক নেই। এ ছাড়া ৩টি জুনিয়র কনসালট্যান্ট ও ৮টি সহকারী সার্জনের পদও শূন্য আছে। রেডিওগ্রাফার, ফিজিওথেরাপিস্ট ও কার্ডিওগ্রাফারের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদও খালি আছে।হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, গতকাল পর্যন্ত হাসপাতালে ১১৭ রোগী ভর্তি আছেন। এছাড়া প্রতিদিন বহির্বিভাগে ৩০০-৩৫০ জন এবং জরুরি বিভাগে ৭০-৮০ জন চিকিৎসা নিতে আসেন। ভর্তি থাকেন ৪৫-৫০ জন।সরেজমিনে হাসপাতাল ঘুরে দেখা গেছে, হাসপাতালে ভর্তি রোগীর মধ্যে ৫৬ রোগী শয্যায় চিকিৎসাসেবা নিচ্ছেন। শয্যা না পেয়ে বাকি রোগীরা বারান্দা ও মেঝেতে বিছানা পেতেছেন। সেখানেই তাদের চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে।হাসপাতালের কর্মরত মেডিকেল অফিসার চিকিৎসক কুন্তল মণ্ডল এ প্রতিদিনের সংবাদকে জানান, প্রতিদিনই অন্তঃসত্ত্বা নারীরা আসেন। কিন্তু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকায় সেবা দিতে সমস্যা হয়। তারপরও যেসব চিকিৎসক আছেন তারা চেষ্টা করেন পর্যাপ্ত সেবা দেওয়ার জন্য।তিনি আরও জানান, মাঝেমধ্যে এত চাপ বাড়ে যে, এই সংখ্যক জনবল দিয়ে সেবা দিতে হিমশিম পোহাতে হয়। দাকোপের বিভিন্ন প্রত্যন্ত গ্রামের প্রান্তিক রোগীরা এখানে আসেন।হাসপাতালে এক্সরে মেশিন থাকলেও রেডিওগ্রাফার বা টেকনিশিয়ান না থাকায় তা ব্যবহার করা যাচ্ছে না। আলট্রাসনোগ্রাম মেশিন থাকলেও নেই সনোলজিস্ট। ফলে এসব পরীক্ষা করাতে রোগীদের বাইরে যেতে হচ্ছে।এ বিষয়ে দাকোপ উপজেলা কমপ্লেক্স এর অতিরিক্ত দায়িত্ব প্রাপ্ত স্বাস্থ্য ও পঃপঃ কর্মকর্তা ডাঃ মোঃওয়েদুজ্জামান সাথে কথা হলে গাইনি ও অ্যানেস্হেসিয়া চিকিৎসক হাসপাতালে না থাকার কারণে প্রসূতি মায়েদের সেবা পেতে রোগীদের মারাত্মক দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে এ কথা স্বীকার করে তিনি প্রতিদিনের সংবাদ এ প্রতিবেদককে বলেন , জনবল সংকট আছে দাকোপ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। নানা সংকটের মধ্যেও রোগী দের সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছি। তবে উদ্ধর্তন কতৃপক্ষের নিকট সকল বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। আমি মনে করি তাড়াতাড়ি একটা ব্যবস্থা নেবেন কতৃপক্ষ।শচীন্দ্র নাথ মন্ডলদাকোপ খুলনাতাং ২৫/১০/২৬

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

খুলনা জেলা বটিয়াঘাটা একদিনের ব্যবধানে আবারো যুবদল নেতা বাদল হাওলাদারের বুকে গুলি,গুরুতর জখম, খুলনা মেডিকেলে ভর্তি:

১

খুলনা জেলা পরিষদের সাবেক প্রশাসনিক কর্মকর্তা দুর্নীতিবাজ মাহাবুবুর রহমান বিরুদ্ধে দুদকের মামলা:

২

ধামইরহাটে আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা

৩

ধামইরহাটে দলীয় করনের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন

৪

ডুমুরিয়ায় মানকচু বাম্পার ফলন: কৃষকের মুখে হাসির ঝিলিক

৫

প্রধানমন্ত্রীর আগমনের পূর্ব প্রস্তুতিতে খুলনা জেলায় অবস্থিত স্টেডিয়াম সমূহ পরিদর্শন করেন : যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মোঃ আমিনুল হক এমপি

৬

দুদকের মামলা, বাদ পড়লেন অর্থ ছাড়ের নেপথ্যে ভূমিকা রাখা কেডিএ’র দুই চেয়ারম্যান, সচিব ও সদস্যরা

৭

ডুমুরিয়ায় পরকীয়ার জেরে রক্তক্ষয়ী হামলার অভিযোগ! দায়ের কোপে পরিমল গুরুতর, রবীনসহ আহত ৪ • খুলনা মেডিকেলে একজন, এলাকায় উত্তেজনা

৮

ঈদগাঁওতে ব্যাংক থেকে টাকা উধাও, থানায় জিডি 

৯

শুভ জন্মদিন ব্যারিস্টার জায়মা রহমান।

১০

কেশবপুরে যাত্রীবেশে বৃদ্ধকে কুপিয়ে ব্যাটারি চালিত ভ্যান নিয়ে গেল দুর্বৃত্ত

১১

যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী সফল করার লক্ষ্যে কেশবপুরে প্রস্তুতি সভা।

১২

কেশবপুরে ৮ দলীয় হাডুডু (কাবাডি) টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত।

১৩

তৃণমূল জাগপা’র প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান সমন্বয়ক নিজামদ্দিন আমিতের নিন্দা ও প্রতিবাদঃ

১৪

দাকোপ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গাইনি সহ গুরুত্বপূর্ণ পদে ডাক্তার না-থাকায় চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের মারাত্মক দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

১৫

জনপ্রিয়তার শীর্ষে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আলমগীর, দিলেন উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি।

১৬

ঈদগাঁও-ঈদগড় সড়কে গণডাকাতির ঘটনায় সন্দেহ ভাজন গ্রেফতার -১ 

১৭

থুকড়া বাজার বায়তুস সালাম কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের নতুন কমিটি ঘোষণা সভাপতি নুরুজ্জামান কিসলু, সম্পাদক আফজাল হোসেন, কোষাধ্যক্ষ মামুন পারভেজ।

১৮

থুকড়া বাজার বায়তুস সালাম কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের নতুন কমিটি ঘোষণা সভাপতি নুরুজ্জামান কিসলু, সম্পাদক আফজাল হোসেন, কোষাধ্যক্ষ মামুন পারভেজ

১৯

পাইকগাছা জনতা ব্যাংকে গ্রাহক হয়রানির অভিযোগ।

২০