bntv24
১১ অগাস্ট ২০২৬, ১০:২৪ পূর্বাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

ক্যান্সারের সঙ্গে লড়ছেন রুবেল, বাঁচতে হলে প্রয়োজন ৫০ লাখ টাকা

মোঃ সাইদ হোসেন, রাজশাহী প্রতিনিধি,

এক সময় নিজের পান বরজ আর কৃষিকাজের আয়েই চলত রুবেল সরদারের সংসার। অভাব ছিল, কিন্তু ছিল স্বপ্নও। তিন সন্তান ও বাবা মা কে নিয়ে সেই পরিবারে ছিল হাসি-কান্নার মিশ্রিত স্বাভাবিক জীবন। কিন্তু ব্লাড ক্যান্সার নামের এক মরণব্যাধি মুহূর্তেই সবকিছু ওলটপালট করে দিয়েছে রুবেলের পরিবারকে।কথাগুলো রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার যুগীশো (কেওয়াপাড়া) গ্রামের বাসিন্দা রুবেল সরদারের। বাবা মফিজ সরদার একজন কৃষক। কৃষিকাজ ও পান বরজই ছিল পরিবারের আয়ের উৎস। রুবেলের পরিবারে তিন সন্তান। বড় মেয়ের বিয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু দরিদ্রতার ছেঁড়া জালে সেই সংসার টেকেনি। তালাকের পর মেয়েটি আবার বাবার বাড়িতে ফিরে এসেছে।পারিবারিক দুশ্চিন্তা রুবেলকে আরও দুর্বল করে দিয়েছে।প্রায় দুই বছর ধরে রুবেল বার বার জ্বর ও শরীরজুড়ে তীব্র ব্যথায় ভুগছিলেন। কখনও রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, কখনও বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিকে চিকিৎসা নিলেও সঠিক রোগ ধরা পড়ছিল না। কি কারনে এমন হয়? অবশেষে চলতি বছরের ৭ এপ্রিল গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হলে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর হেমাটোলজি বিশেষজ্ঞ ডা. মঈনুদ্দিন আহমেদের তত্ত্বাবধানে বোন ম্যারো পরীক্ষা করা হয়। রিপোর্টে Acute Leukemia (সম্ভাব্য AML-M4) ধরা পড়ে। চিকিৎসকরা জানান, তিনি ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত। এমন খবরে মুহূর্তেই পুরো পরিবার অন্ধকারে ডুবে যায়। খবরটি যেন পুরো পরিবারকে ভেঙে দিল।দেশে চিকিৎসা করাতে করতেই কয়েক লাখ টাকা ব্যয় হয়ে যায়। কিন্তু আশানুরূপ উন্নতি না হওয়ায় শুভাকাঙ্ক্ষীদের পরামর্শে ভারতে চিকিৎসা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন রুবেলের পরিবার। অবশেষে ভারতের বেঙ্গালুরুর HCG Cancer Centre-এ চিকিৎসার জন্য যান রুবেল। সেখানে হেমাটো-অনকোলজি ও বোন ম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট বিশেষজ্ঞ ডা. নটরাজ কে. এস.-এর তত্ত্বাবধানে তার চিকিৎসা শুরু হয়। উন্নত পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাকে কেমোথেরাপি ও আধুনিক ওষুধের মাধ্যমে চিকিৎসা দেওয়া হয়। ভারতে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে প্রায় ১৯ দিন ব্যয়বহুল চিকিৎসা গ্রহণ করেন। তবে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, সম্পূর্ণ সুস্থ হতে হলে জরুরি ভিত্তিতে বোন ম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট করাতে হবে। আর এজন্য প্রয়োজন প্রায় ৫০ লাখ টাকা। আপাতত তিনি সেই চিকিৎসার ওপর নির্ভর করেই বেঁচে আছেনসেই চিকিৎসার খরচ জোগাতে পরিবারের একমাত্র সম্বল, চাষযোগ্য জমি ও পান বরজ বিক্রি করে দেন।কিন্তু বাঁচার জন্য এত বিপুল অর্থ জোগাড় করা রুবেলের পরিবারের পক্ষে কোনোভাবেই সম্ভব নয়। জমি নেই, সঞ্চয় নেই, আয়ের পথও প্রায় বন্ধ। সংসার চালানোই এখন কঠিন হয়ে পড়েছে। নিয়মিত ওষুধ কেনার টাকার জন্য বর্তমানে পরিবারকে মানুষের দ্বারস্থ হতে হচ্ছে।অন্যদিকে, আর্থিক সংকটে রুবেলের সন্তানদের লেখাপড়াও বন্ধ হওয়ার উপক্রম। তালাকপ্রাপ্ত বড় মেয়েটিও নতুন করে পড়াশোনা শুরু করে নিজের জীবন গড়ে তুলতে চাইলেও কলেজে ভর্তি করানোর সামর্থ্য নেই পরিবারের।রুবেলের পরিবারের একটাই আকুতি সমাজের বিত্তবান, মানবিক ব্যক্তি, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং দানশীল মানুষের সহযোগিতা পেলে হয়তো আবারও নতুন জীবন ফিরে পেতে পারেন তিনি। সময়মতো চিকিৎসা নিশ্চিত করা গেলে এখনও তাকে বাঁচানোর আশা দেখছেন চিকিৎসকরা।মানবিক সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিলে হয়তো একটি পরিবার আবারও বাঁচার স্বপ্ন দেখতে পারবে।বি:দ্র: যারা রুবেলকে সহযোগিতা বা সহায়তা করতে চান, তাদের জন্য অগ্রনী ব্যাংক পিএলসি- 020026234684।বিকাশ,নগদ,রকেট- 01750636999 (রুবেল সরদারের ব্যক্তিগত

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ভারুয়াখালীকে সিটি কর্পোরেশনে চায় এলাকা বাসী, সংসদ সদস্যকে স্মারকলিপি

কক্সবাজারে ময়লার বিশালাকার স্তুপ,পযর্টকসহ স্থানীয়দের দুর্ভোগ 

ঈদগাঁওতে কন্যার এসএসসির ফলাফল দেখে যেতে পারেননি পিতা

বীরগঞ্জ সম্মিলিত সাংস্কৃতিক গোষ্ঠীর নতুন নেতৃত্বে সঞ্জয় ঘোষ ও আব্দুর রাজ্জাকগোকুল চন্দ্র রায়

কেএমপি’র ট্রাফিক বিভাগের ৩১ সদস্যকে আর্থিক পুরস্কার দিলেন পুলিশ কমিশনার

রূপসায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে আটক ১২

ক্যান্সারের সঙ্গে লড়ছেন রুবেল, বাঁচতে হলে প্রয়োজন ৫০ লাখ টাকা

মণিরামপুরের ফারদিন শাহরিয়ার সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হতে চাই

পরিবেশ রক্ষায় ঈদগাঁও উপজেলায় ৩০ হাজার ফলজ,বনজ ও ঔষুধি গাছের চারা বিতরন 

ছাতকের ‘ব্রিজ একাডেমি’তে এসএসসি-২০২৬ এ শতভাগ সাফল্য

১০

চট্টগ্রামে পুলিশ সদস্যের মরদেহ উদ্ধার, স্ত্রীর অবস্থা আশঙ্কাজনক

১১

গোল্ডেন এ+ পেয়েছে মারজানা,ভবিষ্যতে প্রকৌশলী হয়ে দেশের মানুষের জন্য কাজ করতে চায়

১২

ডুমুরিয়া ও বিল ডাকাতিয়ার সীমান্তবর্তী বিলে বাঁশের সাঁকো নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন আড়ংঘটা ইউপি চেয়ারম্যান জনাব এম এ ফরিদ আক্তার

১৩

এসএসসি পরীক্ষায় কাঙ্ক্ষিত ফল না পেয়ে বাগমারায় স্কুলছাত্রীর আত্মহত্যা

১৪

কেশবপুরে খাদ্য সংকটে ঐতিহ্যবাহী  বিরল প্রজাতির কালোমুখো হনুমান

১৫

সুনামগঞ্জের চাদঁনীঘাটে নিজস্ব অর্থায়নে অস্থায়ী যাত্রীছাউনী নির্মাণ করেন জেলা যুবদলের যোগাযোগ সম্পাদক সুজন মাহমুদ

১৬

আইটিইই পরীক্ষায় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অসাধারণ সাফল্য:

১৭

ঈদগাঁওতে আধুনিকতার ছোঁয়ায় গ্রামীন ঐতিহ্য  রেডিও-ক্যাসেট প্লেয়ার বিলুপ্ত

১৮

ডুমুরিয়ায় ব্র্যাকের আয়োজনে আনলকিং ফাইন্যান্সিয়াল সলিউশন’স ফর ইয়ুথ এন্টারপ্রাইজ ডেভেলপমেন্ট প্রকল্পের সমাপনী সভা অনুষ্ঠিত

১৯

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জলাবদ্ধতা নিরসন: বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনা ও ‘টিআরএম’ বাস্তবায়নের তাগিদ

২০