Bntv245487
৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১:৩১ অপরাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সংকটের মধ্যেও সাফল্য ,কমেছে ভোগান্তি ও চিকিৎসা ব্যয়

কয়রা প্রতিনিধি :

উপকূলীয় অঞ্চল খুলনার কয়রায় প্রান্তিক মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার অঙ্গীকারে তীব্র জনবল সংকট ও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার মধ্যেও সরকারি স্বাস্থ্যসেবায় ইতিবাচক পরিবর্তনের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। স্থানীয়দের ভাষ্য,অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ, অপ্রতুল বেড সংখ্যা, জলাবদ্ধতা, বিশুদ্ধ পানির অভাব এমনই অবস্থা ছিল কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের। একসময়ের জীর্ণশীর্ণ এ হাসপাতালে নানা সংকটের মধ্যেও দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর পুনরায় চালু হয়েছে অপারেশন থিয়েটার (ওটি)। গাইনি,সার্জারি এবং এ্যানেস্হেসিয়া ডাক্তার পোস্টিং না থাকলেও কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে অন্য উপজেলা থেকে নির্দিষ্ট দিনে সংশ্লিষ্ট ডাক্তারগণ এসে নিয়মিত সিজার অপারেশন সহ মহিলাদের জরায়ু অপারেশনের মত জটিল অস্ত্রোপচার এখন উপজেলা হাসপাতালেই সফলভাবে সম্পন্ন হচ্ছে।রাষ্ট্রীয় সংকটেও মিলছে ভালো মানের ঔষধ।মিলেছে সাফল্য,কমেছে ভোগান্তি ও চিকিৎসা ব্যয়,লেগেছে উন্নয়নের ছোয়া। উন্নত সেবা ও আধুনিক সুযোগ-সুবিধা পেয়ে আস্থা ফিরেছে রোগীদের মাঝে। অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়েও রোগীরা এখন আন্তরিকতাপূর্ণ সেবা পাচ্ছেন। রোগী ও স্থানীয়দের মধ্যে দেখা দিয়েছে আশার আলো। এছাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগ, আন্তঃবিভাগ ও বহির্বিভাগের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণ, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং সৌন্দর্যবর্ধন সার্বিক কার্যক্রম তদারকির মাধ্যমে স্বাস্থ্য খাতের ইতিহাসে এক অনন্য সুন্দর সফলতা বলে আখ্যা দিচ্ছেন স্থানীয়রা। উন্নয়নের নেপথ্যে রয়েছে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার কঠিন পরিশ্রম ও আন্তরিকতা। স্বাস্থ্য কর্মকর্তার কর্ম দক্ষতার কারণে সরকারিভাবে একাধিকবার পেয়েছেন পুরুষ্কার । উপকূলীয় এ অঞ্চলের প্রায় ৩ লাখ মানুষের চিকিৎসার অন্যতম ভরসা ৫০ শয্যাবিশিষ্ট এ হাসপাতালটি ৪২ জন চিকিৎসকের অনুমোদিত পদের বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত মাত্র ১৫ জন। তাদের মধ্যে ডেপুটেশন ও ছুটিসহ বিভিন্ন কারণে নিয়মিত সেবা দিচ্ছেন মাত্র ১২ জন চিকিৎসক। এ ছাড়া প্রয়োজনের তুলনায় নার্স, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও অন্যান্য জনবলও কম রয়েছে। প্রয়োজনীয় জনবল সংকট থাকা সত্তেও এখানকার চিকিৎসক, নার্স, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে সমন্বয় করে দক্ষতার সঙ্গে নানা সংকট মোকাবিলার মাধ্যমে কয়রায় স্বাস্থ্যসেবা প্রদানে প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করে চলেছেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা.মোহাম্মদ রেজাউল করিম ও দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা।হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, হাসপাতালে বর্তমানে প্রতিদিন বহির্বিভাগে ৩০০ থেকে ৩৫০ জন এবং অন্তর্বিভাগে ৩৫ থেকে ৫০ জন রোগী চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করছেন।যা বিগত কয়েক বছরে তুলনায় দ্বিগুণ। হাসপাতালে এনসিডি কর্নার নামে একটি নতুন বিভাগ খোলা হয়েছে। এখানে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হাঁপানি রোগীদের বিশেষ সেবা দেওয়া হয়। রয়েছে ছোট বাচ্চাদের দুগ্ধ পান করার জন্য ব্রেস্ট ফিডিং কর্নার।শিশুদের খেলার জন্য কিডস কর্ণার।বহির্বিভাগে আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা সেবা চালু আছে। দেয়া হচ্ছে বিনা মূল্যে বিভিন্ন রোগের ঔষধ। এছাড়া রোগীদের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিতের জন্য সার্বক্ষণিক অক্সিজেন সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে। পুরো হাসপাতালের অনÍ:বিভাগ,জরুরী বিভাগ,নার্সেস ডিউটি রুমে ২৪ ঘন্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিতে আইপিএস সেট করা হয়েছে যার ফলে তীব্র লোডশেডিং এ উপকার পাচ্ছে রোগীসাধারণ।অন্ত:বিভাগে মহিলাদের নামাজের জন্যও বিশেষভাবে সুসজ্জিত নামাজের স্হান করা হয়েছে।বাইরে হাসপাতাল প্রাঙ্গণে সংস্কার আর আধুনিকায়ন,দৃষ্টিনন্দন করা হয়েছে হাসপাতালে জামে মসজিদ। এছাড়াও আগত রোগী এবং তাদের স্বজনদের মোটরসাইকেল রাখার জন্য বানানো হয়েছে পার্কিং শেড।উন্নত মানের পাবলিক টয়লেট ।এতে স্হানীয় সহ আগত সকল জনগণ অত্যন্ত সন্তুষ্ট।হাসপাতালে মূল ভবন নির্মাণাধীন থাকার কারণে এক্সরে,আল্ট্রসনোগ্রাম,প্যাথলজী সেবা ব্যহত হচ্ছে। প্যাথলজী না থাকলেও কর্তৃপক্ষের নিজস্ব উদ্যোগে সবসময়ই ইসিজি,ডায়াবেটিস পরীক্ষার স্ট্রিপ,প্রেগনেন্সি টেস্ট কীট,হার্ট এ্যাটাক পরীক্ষার জন্য কার্ডিয়াক ট্রপোনিন আই ডিভাইস,ডেঙ্গু পরীক্ষা কীট,গর্ভের বাচ্চার কন্ডিশন বুঝতে ফিটাল ডপলার মেশিনের ব্যবস্থা আছে যার রোগীদের সেবায় বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।এছাড়াও সাপে কাটা রোগীর জন্য জীবন রক্ষাকারীএন্টিভেনোম পর্যাপ্ত আছে। আছে এ্যান্টি র‍্যাবিস ভ্যাক্সিনও।আছে দরিদ্র রোগীদের জন্য সমাজ সেবা দপ্তরের মাধ্যমে বিনামূল্যে ঔষধ পাওয়ার সুবিধা হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা একাধিক রোগী ও রোগীর স্বজনরা জানান,বিগত দিনের তুলনায় হাসপাতাল কমপ্লেক্সের ভিতর অনেক পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন। সাথে মিলছে নতুন নতুন সেবা। চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের আন্তরিকতায় তারা সন্তুষ্ট। তবে জনবল সংকটের কারণে কিছুটা সময় অপেক্ষা করতে হলেও কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসাসেবা পাচ্ছেন। প্রয়োজনীয় জনবল বাড়ানো হলে সেবার মান আরও উন্নত হবে বলে তারা মনে করেন।স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে দক্ষিণ বেদকাশী থেকে আসা আনজুমারা বেগম বলেন, এক সময় নিয়মিত চিকিৎসক ও ওষুধ পাওয়া যেত না, হাসপাতালে এসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ডাক্তারের জন্য অপেক্ষা করা লাগতো । এখন হাসপাতালে আসলেই চিকিৎসকের দেখা মেলে। আমরাও আন্তরিকতার সাথে আধুনিক ও উন্নত সেবা পাচ্ছি। বিনামূল্যে ওষুধও দিচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।উপজেলার সদর থেকে ১৫ কিলোমিটার দূরত্বে থেকে হাসপাতালে মাকে ভর্তি করেছিলেন রিয়াদ শেখ । তিনি বলেন, ৩ দিন আগে মাকে ভর্তি করেছিলাম। এখানকার চিকিৎসক ও নার্সরা অনেক আন্তরিক। হাসপাতাল থেকে ওষুধ খাবার দেওয়াসহ নিয়মিত খোঁজখবর নিয়েছে। হাসপাতালের ভেতরের পরিবেশটাও এখন অনেক সুন্দর। দুই বছর আগে একবার এসেছিলাম তখন আর এখন অনেক পরিবর্তন। সেবা নিতে আসা এক রোগী মোছা. আফরোজা খানম জানান, আগের তুলনায় হাসপাতালটির অনেক পরিবর্তন হয়েছে। ডাক্তার নার্স দের আন্তরিকতা আশেপাশের পরিবেশ, পরিচ্ছন্নতা,সব কিছুই পরিবর্তন হয়েছে। উপজেলার গোবরা গ্রামের বাসিন্দা আলামিন ইসলাম বলেন, ডাঃ রেজাউল করিম আশার পর হাসপাতালটি খুব সুন্দর করে সাজিয়েছেন। প্রয়োজনীয় লোকবল না থাকলেও তিনি ও অন্যান্য চিকিৎসকরা যে কষ্ট করেন তা প্রশংসনীয়।কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রেজাউল করিম বলেন,হাসপাতালটিতে সেবার মান বাড়াতে বেশ কিছু উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বেশ কিছু কাজ ইতোমধ্যে শেষ করেছি। বৃহৎ জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে চিকিৎসকসহ শূন্য পদগুলো দ্রæত পূরণ এবং চলমান উন্নয়নকাজ শেষ করা জরুরি। বর্তমান জনবল দিয়ে সর্বোচ্চ আন্তরিকতা নিয়ে সেবা দেওয়া হচ্ছে। প্রয়োজনীয় জনবল ও অবকাঠামোগত সুবিধা নিশ্চিত হলে হাসপাতালের সেবার পরিধি ও মান আরও অনেকগুণ বৃদ্ধি পাবে। তিনি আরও জানান,স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভিতরের ও বাইরের সার্বিক উন্নয়ন করা সহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আওতায় ইউনিয়ন পর্যায়ে উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্র, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র এবং কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো নিয়মিত মনিটরিংয়ের মাধ্যমে মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণের জন্য সকলের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে চেষ্টা করছি। হাসপাতালের সকল ডাক্তার, নার্স, স্টাফদের সহযোগিতায় এই পুরো কার্যক্রমটি হয়েছে আরও বেগবান। হাসপাতালের চলমান নতুন ভবনের কাজটি শেষ হলে ভোগান্তি আরও লাঘব হবে।তবে স্বাস্থ্য সেবা উন্নতকরণে স্হায়ীভাবে গাইনি,সার্জারি,এ্যানেস্হেসিয়া ডাক্তার এবং এ্যম্বুলেন্সের জন্য একজন সরকারি ড্রাইভার ও প্যাথলজির জন্য একজন ল্যাব টেকনিশিয়ান পদায়ন অতীব জরুরী।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

খুলনা জেলা বটিয়াঘাটা একদিনের ব্যবধানে আবারো যুবদল নেতা বাদল হাওলাদারের বুকে গুলি,গুরুতর জখম, খুলনা মেডিকেলে ভর্তি:

১

খুলনা জেলা পরিষদের সাবেক প্রশাসনিক কর্মকর্তা দুর্নীতিবাজ মাহাবুবুর রহমান বিরুদ্ধে দুদকের মামলা:

২

ধামইরহাটে আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা

৩

ধামইরহাটে দলীয় করনের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন

৪

ডুমুরিয়ায় মানকচু বাম্পার ফলন: কৃষকের মুখে হাসির ঝিলিক

৫

প্রধানমন্ত্রীর আগমনের পূর্ব প্রস্তুতিতে খুলনা জেলায় অবস্থিত স্টেডিয়াম সমূহ পরিদর্শন করেন : যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মোঃ আমিনুল হক এমপি

৬

দুদকের মামলা, বাদ পড়লেন অর্থ ছাড়ের নেপথ্যে ভূমিকা রাখা কেডিএ’র দুই চেয়ারম্যান, সচিব ও সদস্যরা

৭

ডুমুরিয়ায় পরকীয়ার জেরে রক্তক্ষয়ী হামলার অভিযোগ! দায়ের কোপে পরিমল গুরুতর, রবীনসহ আহত ৪ • খুলনা মেডিকেলে একজন, এলাকায় উত্তেজনা

৮

ঈদগাঁওতে ব্যাংক থেকে টাকা উধাও, থানায় জিডি 

৯

শুভ জন্মদিন ব্যারিস্টার জায়মা রহমান।

১০

কেশবপুরে যাত্রীবেশে বৃদ্ধকে কুপিয়ে ব্যাটারি চালিত ভ্যান নিয়ে গেল দুর্বৃত্ত

১১

যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী সফল করার লক্ষ্যে কেশবপুরে প্রস্তুতি সভা।

১২

কেশবপুরে ৮ দলীয় হাডুডু (কাবাডি) টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত।

১৩

তৃণমূল জাগপা’র প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান সমন্বয়ক নিজামদ্দিন আমিতের নিন্দা ও প্রতিবাদঃ

১৪

দাকোপ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গাইনি সহ গুরুত্বপূর্ণ পদে ডাক্তার না-থাকায় চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের মারাত্মক দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

১৫

জনপ্রিয়তার শীর্ষে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আলমগীর, দিলেন উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি।

১৬

ঈদগাঁও-ঈদগড় সড়কে গণডাকাতির ঘটনায় সন্দেহ ভাজন গ্রেফতার -১ 

১৭

থুকড়া বাজার বায়তুস সালাম কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের নতুন কমিটি ঘোষণা সভাপতি নুরুজ্জামান কিসলু, সম্পাদক আফজাল হোসেন, কোষাধ্যক্ষ মামুন পারভেজ।

১৮

থুকড়া বাজার বায়তুস সালাম কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের নতুন কমিটি ঘোষণা সভাপতি নুরুজ্জামান কিসলু, সম্পাদক আফজাল হোসেন, কোষাধ্যক্ষ মামুন পারভেজ

১৯

পাইকগাছা জনতা ব্যাংকে গ্রাহক হয়রানির অভিযোগ।

২০