জি,এম,ফিরোজ, ডুমুরিয়া।
আজ বিশ্ব শিক্ষক দিবস। পৃথিবীর সব প্রান্তে যখন শিক্ষককে সম্মান জানানোর দিন, তখনও হাজারো শিক্ষক নীরবে দাঁড়িয়ে আছেন মানুষ গড়ার মহান দায়িত্বে। কেউ চক হাতে বছরের পর বছর শ্রেণিকক্ষে জ্ঞানের আলো ছড়িয়েছেন, কেউ শিশুর হাত ধরে শিখিয়েছেন অ, আ, ক, খ; কেউ মক্তব-মাদ্রাসায় কোরআনের হরফ, কেউবা ল্যাবরেটরিতে পরমাণুর ভেতর দেখিয়েছেন মহাবিশ্বের রহস্য। নাম-পরিচয়, পোশাক আর কর্মক্ষেত্র আলাদা হলেও শিক্ষকের কষ্ট এক, আনন্দ এক—আর সবার দেশ একটাই, ‘ক্লাসরুম’। সেই শ্রেণিকক্ষেই ধনী-গরিবের সন্তানেরা পাশাপাশি বসে স্বপ্ন দেখে। শিক্ষক ডাক্তার, প্রকৌশলী, বিজ্ঞানী, পাইলট থেকে রাষ্ট্রের শীর্ষ নেতৃত্ব পর্যন্ত তৈরি করেন; অথচ দিন শেষে নিজেরাই থেকে যান অনেকটা অচেনা। কারণ প্রদীপের কাজই তো নিজে জ্বলে অন্যকে আলো দেওয়া। অবসরের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়ানো শিক্ষক থেকে কাদামাটি মাড়িয়ে স্কুলে যাওয়া শিক্ষিকা কিংবা প্রথম ক্লাসে ঘামতে থাকা তরুণ শিক্ষক—আজকের এই দিনটি তাঁদের সবার। তাঁদের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি বেতন-ভাতার হিসাব নয়; অদৃশ্য সেই খাতা, যেখানে লেখা থাকে—‘স্যার, আপনার জন্য দোয়া করি’, ‘ম্যাডাম, আজও আপনার কথা মনে পড়ে।’ আমরা শিক্ষক—ছিলাম, আছি, থাকব; যতদিন একটি শিশুও প্রথমবার স্কুলের গেট পেরিয়ে স্বপ্ন দেখতে শুরু করবে।বাইলাইন/পরিচয়: প্রফেসর বিএম আব্দুল হান্নান, সাবেক মহাপরিচালক, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)।
মন্তব্য করুন