নিজেস্ব প্রতিনিধি:দীপথে পণ্য বহনকারী লাইটার কার্গো জাহাজ এখনো নিয়ন্ত্রণ করছে আওয়ামী রাঘব বোয়ালদের সিন্ডিকেট। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সালমান এফ রহমান, সাবেক মেয়র আ জ ম নাছির, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাসান মাহমুদ ও তার ভাই খালেদ মাহমুদ, ঢাকার সাবেক এমপি হাজী মোহাম্মদ সেলিম, চট্টগ্রামের এমপি এমএ লতিফ, দলের নেতা বাসুদেব ব্যানার্জি এবং অমল বাবুর প্রতিষ্ঠান এই সিন্ডিকেটের মূল হোতা।২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর সালমান এফ রহমান, হাজী সেলিম, এম এ লতিফ ও বাসুদেব ব্যানার্জি গ্রেপ্তার হলেও সিন্ডিকেটের অন্য সদস্যরা রয়েছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। এই সিন্ডিকেটকে চাঁদা দিয়ে চট্টগ্রাম বহির্নোঙরে জাহাজ ভেড়ানো ও সারাদেশে পণ্য পরিবহন করতে হয়। সিন্ডিকেট ভাঙতে লাইটার কার্গো জাহাজ মালিকরা সরকারের কাছে ১০ দফা দাবি তুলে ধরেছেন।অন্যথায় জাহাজ বন্ধ করে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ডিজি শিপিং-এর সহযোগিতায় আওয়ামী সিন্ডিকেটের সদস্য হাজী শফিক আহমেদ নিজেকে বাংলাদেশ ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট কো-অর্ডিনেশন সেল (বিডব্লিউটিসিসি) পরিচালনা কমিটির কনভেনর ঘোষণা করেন। লাইটার কার্গো জাহাজ মালিকরা বলছেন, তাদের ডেমারেজ পাওনা ৫০০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করার জন্য শফিক আহমেদ কনভেনার হয়েছেন। এছাড়া লাইটার জাহাজকে গোডাউন বানিয়ে পণ্য খালাস না করে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরির অভিযোগ রয়েছে সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে।জানা যায়, বিদেশ থেকে আমদানি করা পণ্যের মাদার ভেসেল চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দরের বহির্নোঙ্গরে অবস্থান করে। এখান থেকে নদীপথে সারাদেশে পণ্য পৌঁছানোর জন্য লাইটার কার্গো জাহাজ ব্যবহার হয়। জাহাজের ভাড়া দেওয়া ও ভাড়া আদায়ের মধ্যস্থতা করে বাংলাদেশ ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট কো-অর্ডিনেশন সেল, ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট কার্গো এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশন ও পণ্যের এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যরা। লাইটার কার্গো জাহাজ মালিকদের অভিযোগ, সারা দেশে পণ্য পরিবহনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে পণ্যের এজেন্টদের এই সংগঠনগুলো।তাদের অসহযোগিতায় ২১ বছরেও বাস্তবায়ন হয়নি নৌ-নীতিমালা। যে কারণে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সরকার ২০০৪ সালে নৌ নীতিমালা তৈরি করে। এই নীতিমালার আলোকে বাংলাদেশ ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট কো-অর্ডিনেশন সেল (বিডব্লিউটিসি) পরিচালনার জন্য পণ্যের এজেন্ট ও লোকাল এজেন্টদের আঞ্চলিক সংগঠন ইংল্যান্ড ভেসেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব চিটাগাং (আইভোয়াক), লাইটার কার্গো জাহাজ মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ কার্গো ভেসেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিসিভোয়া) এবং কোস্টাল শিপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (কোয়াব)-এর মধ্যে এমইউ স্বাক্ষর হয়।এছাড়া গত ৩০ জুন পণ্যের এজেন্টদের কাছে লাইটার কার্গো জাহাজ মালিকদের ডেমারেজ পাওনা ২০১৮ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ২১১ কোটি ৮৯ লাখ টাকা পরিশোধ করার একটি সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর হয়। এতে স্বাক্ষর করেন নৌ পরিবহন অধিদপ্তরের ইন্সপেক্টর মো. শফিকুর রহমান, বিআইডব্লিউটিসির নির্বাহী পরিচালক মেজর (অব.) জি এম খান, পণ্যের এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের নরোত্তম চন্দ্র সাহা পলাশ, কোয়াব প্রতিনিধি মো. খুরশিদ আলম, বিসিভোয়া প্রতিনিধি মো. মুজিবুল হক মুজিব, আইভোয়াক সভাপতি শফিক আহমেদ, কোয়াব চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মেহেবুব কবির ও বন্দর কর্তৃপক্ষ কমিটির আহ্বায়ক ক্যাপ্টেন মো. মোস্তাহিদুল ইসলাম প্রমুখ।সমঝোতা চুক্তি অনুযায়ী টাকা পরিশোধ না করায় ২০২৫ সাল পর্যন্ত পণ্যের এজেন্টদের কাছে লাইটার কার্গো জাহাজ মালিকদের পাওনা পড়েছে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা। লাইটার কার্গো জাহাজ মালিকদের এই বিপুল পরিমাণ টাকা পরিশোধ না করে উক্ত টাকা দিয়ে আওয়ামী লীগের পণ্যের এজেন্টরা নিজেদের নামে জাহাজ তৈরি করে কম মূল্যে পণ্য পরিবহন করছে। রয়েছে সমুদ্রগামী জাহাজ ও লাইটার কার্গো জাহাজ চলাচলে সিন্ডিকেটের সদস্যদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ।এছাড়া সরকারের নীতিমালা অমান্য করে নিজেদের জাহাজে কম ভাড়ায় পণ্য পরিবহন করায় বেকার হয়ে যাচ্ছে প্রকৃত জাহাজ মালিক ও শ্রমিকরা। তারা সিরিয়াল না পেয়ে পণ্য পরিবহন করতে পারছেন না।এ ব্যাপারে কথা হয় ভুক্তভোগী জাহাজ মালিক মনির আহমেদ, মো. মোশাররফ হোসেন, শাহজামাল, রবিউল বেপারী ও মো. আলমগীরের সঙ্গে। তাদের অভিযোগ আওয়ামী সরকারের আমলে গড়ে ওঠা সিন্ডিকেটের কাছে তারা জিম্মি। চট্টগ্রামভিত্তিক আঞ্চলিক সংগঠন পণ্যের এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশন ও লোকাল এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যদের কাছে ডেমারেজ ও জাহাজ ভাড়ার পাওনা ৫০০ কোটি টাকা না পেয়ে ব্যবসা করতে পারছেন না তারা। সমঝোতা চুক্তি করেও চুক্তি বাস্তবায়ন করছে না পণ্যের এজেন্টরা। উল্টো বিডব্লিউটিসিসির স্বঘোষিত কনভেনার কমিটি করে টাকা আত্মসাৎ করার পাঁয়তারা করছে।সংগঠনের সহ-সভাপতি জিএম সারোয়ার হোসেন আমার দেশকে জানান, চট্টগ্রামে আমদানিকৃত পণ্য নদী পথে সারা দেশে পৌঁছে দেওয়ার জন্য লাইটার কার্গো জাহাজ ব্যবহার হয়। মধ্যস্বত্বভোগী পণ্যের এজেন্ট কর্তৃক জাহাজের সিরিয়াল নিয়ন্ত্রণ ও ভাড়া নির্ধারণ হয়। আওয়ামী দুঃশাসনের গত ১৫ বছর লাইটার কার্গো জাহাজের সিরিয়াল নিয়ন্ত্রণ করে আসছে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সহযোগী ও ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট কার্গো এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি বেলায়েত হোসেন, সাবেক মেয়র আ জ ম নাসিরের সহযোগী পারভেজ আহমেদ, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাসান মাহমুদ ও তার ভাই খালেদ মাহমুদের সহযোগী আব্দুল আজিজ, ঢাকার সাবেক এমপি হাজী সেলিম ও তার প্রতিষ্ঠান, চট্টগ্রাম বন্দর ও পতেঙ্গার সাবেক এমপি এম এ লতিফ, আওয়ামী লীগ নেতা বাসুদেব ব্যানার্জি ও অমল বাবুর সিন্ডিকেট। যা এখনো অব্যাহত রয়েছে।তিনি আরো জানান, এই সিন্ডিকেট বিগত দিনে লাইটার কার্গো জাহাজ ভাড়া নিয়ে নির্ধারিত সময় ১১ দিনে পণ্য খালাস না করে সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে ১১ মাস পর্যন্ত লাইটার কার্গো জাহাজকে ভাসমান গোডাউন হিসেবে ব্যবহার করেছে। এ কারণে দেশে পণ্যের কৃত্রিম সংকটের ও পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। এভাবে পণ্যের এজেন্টদের কাছে লাইটার কার্গো জাহাজ মালিকদের ডেমারেজ ভাড়াও বকেয়া পড়েছে ৫০০ কোটি টাকা। ডেমারেজ ও ভাড়ার পাওন
মন্তব্য করুন