নিজেস্ব প্রতিনিধি:আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খুলনা-১ আসনে সম্মিলিত জাতীয় জোট মনোনীত প্রার্থী সুনীল শুভ রায় ১২ দফা নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছেন। আজ মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) দুপুরে খুলনা প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি ইশতেহার ঘোষণা করেন।১২ দফা ইশতেহার ঘোষণা করে আগামী নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার আশা করছেন শুভ।খুলনায় এই প্রথম কোনো সংসদ সদস্য প্রার্থীর পক্ষ থেকে ইশতেহার ঘোষণা করা হলো। তিনি এবার ধার করা প্রতীক ‘মোমবাতি’ নিয়েই নির্বাচনী মাঠে রয়েছেন, যেটি বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের প্রতীক। ওই আসনে ইসলামী ফ্রন্টের কোনো প্রার্থী না থাকায় সুনীল শুভ রায়কে মোমবাতি প্রতীকে নির্বাচন করার জন্য দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।সংবাদ সম্মেলনে একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধ, অসাম্প্রদায়িক চেতনা এবং ধর্মীয় মূল্যবোধের ভিত্তিতে ধর্ম-বর্ণ-নির্বিশেষে সবার মধ্যে সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি, সহমর্মিতা ও ভ্রাতৃত্ববোধ সুদৃঢ় করা হবে এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসা পরায়ণতা সম্পূর্ণ দূর করাসহ মোট ১২ দফা ইশতেহার ঘোষণা করেন শুভ।অন্যান্য দফার মধ্যে রয়েছে দাকোপ ও বটিয়াঘাটার সর্বস্তরের জনগণের সম্পূর্ণ নিরাপত্তা এবং মৌলিক সব অধিকার যথাযথভাবে উপভোগ করার নিশ্চয়তা বিধান করা হবে; দাকোপ ও বটিয়াঘাটাকে সম্পূর্ণভাবে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, ভূমিদস্যুতা, দখলদারি এবং মাদকমুক্ত করা হবে; প্রশাসনকে সর্বাত্মক সহযোগিতার মাধ্যমে দাকোপ ও বটিয়াঘাটাকে চুরি, ডাকাতি, ছিনতাইমুক্ত এলাকায় পরিণত করার সর্বাত্মক চেষ্টা করা হবে; পর্যটন শিল্পের ব্যাপক বিকাশসহ পরিবেশগত সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন শিল্প কারখানা স্থাপনে বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করে শিল্প প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে স্থানীয় বেকার সমস্যা দূর করতে সর্বাধিক গুরুত্ব আরোপ করা হবে; যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে পানখালি ও পোদ্দারগঞ্জ ঘাটে সেতু নির্মাণসহ জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সেতু-কালভার্ট নির্মাণের সর্বাত্মক চেষ্টা করা হবে; নদীভাঙন রোধে স্থায়ী কার্যকর ব্যবস্থা, ভরাট নদী বা খাল খনন করাসহ খনন করা নদী বা খালের দুই পাশে বনায়নের ব্যবস্থা হবে; একই সঙ্গে ওইসব স্থানে গুচ্ছগ্রাম প্রকল্পের মাধ্যমে ভূমিহীনদের বাসস্থানের ব্যবস্থা, খনন করা নদী বা খালের পানি কৃষিকাজে সেচ ব্যবস্থার মাধ্যমে ব্যবহারের সুযোগ সৃষ্টি, প্রয়োজন অনুসারে নতুন রাস্তা নির্মাণ ও পাকাকরণ করা হবে এবং বিদ্যমান সড়কের সংস্কার ও পুনঃনির্মাণ নিশ্চিত করা, যেসব এলাকায় সুপেয় পানীয় জলের অভাব রয়েছে, সেসব জায়গায় প্রকল্পের মাধ্যমে প্লান্ট নির্মাণ করে প্লান্ট থেকে পাইপের মাধ্যমে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ, শিক্ষা ও চিকিৎসা ব্যবস্থার উন্নয়নে কার্যকর ব্যবস্থা, এই দুই উপজেলায় একাধিক মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মাদরাসা ও মহাবিদ্যালয় সরকারি করার উদ্যোগ নেওয়া হবে, চিকিৎসা ব্যবস্থার উন্নয়নে উপজেলার হাসপাতাল গুলোতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসক নিয়োগ, পর্যাপ্ত ওষুধ সরবরাহ এবং প্রত্যেক ইউনিয়নে স্বাস্থ্য সেবাকেন্দ্র স্থাপনের ব্যবস্থা, দাকোপ ও বটিয়াঘাটা উপজেলায় জনগণের সেবাদানকারী সব অফিস দুর্নীতিমুক্ত করা, জনগণ যাতে স্বাচ্ছন্দ্যে তাদের নাগরিক সেবা গ্রহণ করতে পারে তার ব্যবস্থা এবং প্রতিবছর অন্তত একবার এলাকাভিত্তিক কিংবা উপজেলাভিত্তিক জনগণের সরাসরি অংশগ্রহণে ‘জনতার মুখোমুখি জনপ্রতিনিধি’ শীর্ষক সমাবেশ আয়োজনের মাধ্যমে জনপ্রতিনিধিদের জবাবদিহির ব্যবস্থা করা হবে। এ ছাড়া জনগণের অভিযোগ কিংবা দাবি উত্থাপনের সুযোগ এবং উন্নয়নের ক্ষেত্রে জনসাধারণের পরামর্শ গ্রহণ এবং তা বাস্তবায়নের ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।সংবাদ সম্মেলনে সুনীল শুভ রায় বলেন, আমার চাওয়া-পাওয়ার কিছু নেই। কিন্তু অভিজ্ঞতা থেকে নেওয়ার আছে অনেক কিছু। সংবাদ সম্মেলনে বটিয়াঘাটা ও দাকোপ উপজেলা জাতীয় পার্টি (রওশন) ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন