bntv24
৩ অগাস্ট ২০২৬, ৬:২৪ অপরাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

বিডিআরসিএস-আইএফআরসি জরিপে হামে আক্রান্ত প্রতি ১০ পরিবারের ৯টিই চিকিৎসার খরচ মেটাতে ঋণ নিয়েছে

ডেস্ক :

বাংলাদেশে হামের চিকিৎসা ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন খরচ বহন করতে গিয়ে বড় ধরনের আর্থিক সংকটে পড়ছে আক্রান্ত পরিবারগুলো। বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি (বিডিআরসিএস) এবং ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব রেড ক্রস অ্যান্ড রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিজ (আইএফআরসি)-এর যৌথ জরিপে উঠে এসেছে, হামে আক্রান্ত প্রতি ১০টি পরিবারের প্রায় ৯টি (৮৯ শতাংশ) চিকিৎসার খরচ মেটাতে ঋণ নিয়েছে। এছাড়া প্রতি ১০টি পরিবারের প্রায় ৬টি (৬১ শতাংশ) তাদের সঞ্চয় শেষ করেছে।জরিপে অংশ নেয়া সব পরিবারই জানিয়েছে, তাদের আর্থিক সহায়তা প্রয়োজন। এর মধ্যে ৩৫ শতাংশ পরিবার ওষুধকে সবচেয়ে জরুরি সহায়তা হিসেবে উল্লেখ করেছে। এরপর রয়েছে পানি, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যবিধি (ওয়াশ) সহায়তা ৩৩ শতাংশ এবং খাদ্য সহায়তা ২২ শতাংশ।জরিপের তথ্য অনুযায়ী, ৪ শতাংশ পরিবার নিজেদের সম্পদ বিক্রি করেছে এবং প্রায় ৩ শতাংশ পরিবার অনুদানের মাধ্যমে চিকিৎসা ও অন্যান্য ব্যয় মেটানোর চেষ্টা করেছে।বাংলাদেশের ১২টি সরকারি মেডিকেল কলেজ ও জেলা হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া হামে আক্রান্ত ২ হাজার ৭৪৬টি পরিবারের ওপর এই মূল্যায়ন পরিচালনা করা হয়। হামে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ২ হাজার ৪০০ পরিবারকে জরুরি নগদ সহায়তা হিসেবে প্রতি পরিবারকে ১০ হাজার টাকা দেয়ার জন্য নির্বাচন এবং হামের সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব মূল্যায়নের উদ্দেশ্যে জরিপটি পরিচালনা করা হয়।নির্ধারিত ঝুঁকির মানদণ্ড অনুযায়ী ২ হাজার ৭৪৬টি পরিবারের মূল্যায়ন করা হয়। এর মধ্যে ২ হাজার ৪০০ পরিবারকে সহায়তার জন্য নির্বাচন করা হয়েছে।জরিপে অংশ নেয়া পরিবারগুলোর মধ্যে ৭৫ শতাংশ রোগীর বয়স ছিল ৪ বছর বা তার কম। ৬ থেকে ১৭ বছর বয়সী রোগী ছিল ১৯ শতাংশ এবং ১৮ বছরের বেশি বয়সী রোগী ছিল ৬ শতাংশ।জরিপে পাওয়া তথ্যানুযায়ী, চিকিৎসা ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য খাতে প্রতিটি পরিবার গড়ে ১৬ হাজার টাকা ব্যয় করেছে। অনেক অভিভাবক জানিয়েছেন, অসুস্থ শিশু বা পরিবারের সদস্যের পাশে দীর্ঘ সময় হাসপাতালে অবস্থান করায় তাদের আয় বন্ধ হয়ে গেছে। এমনকি কেউ কেউ চাকরিও হারিয়েছেন।জুন মাসে রংপুর থেকে ১১ মাস বয়সী মেয়েকে নিয়ে ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য এসেছেন হাজেরা খাতুন। চিকিৎসার জন্য এরই মধ্যে তাদের পরিবারের ৭০ হাজার টাকার বেশি খরচ হয়েছে। এবারই প্রথম ঢাকায় এসেছেন তিনি।হাজেরা খাতুন বলেন, ‘সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা বিনামূল্যে হলেও অনেক খরচ এর বাইরে থাকে। শুধু অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকায় আসতেই আমাদের প্রায় ২০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। প্রতিদিন খাবার কিনতে হচ্ছে, বিভিন্ন মেডিকেল পরীক্ষার খরচ দিতে হচ্ছে। এর সঙ্গে আরও নানা দৈনন্দিন ব্যয় রয়েছে। আমি ইতোমধ্যে আত্মীয়-স্বজনের কাছ থেকে টাকা ধার করেছি। আমার স্বামী সৌদি আরবে কাজ করেন, কিন্তু এই মাসে তিনি বেতন পাননি। এতে আমাদের পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে পড়েছে।’যেসব পরিবার তাদের পেশার তথ্য দিয়েছে, তাদের মধ্যে ৭৮ শতাংশই অনানুষ্ঠানিক খাতে কাজ করে। এসব পরিবারের মাসিক আয় ৬ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকার মধ্যে। ফলে পরিবারের কোনো সদস্য দীর্ঘ সময় অসুস্থ থাকলে আয় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তারা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে পড়েন।বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির সেক্রেটারি জেনারেল ড. কবির এম. আশরাফ আলম এনডিসি বলেন, ‘এই মূল্যায়নে দেখা যাচ্ছে, অনেক পরিবার শুধু স্বাস্থ্য সংকট নয়, একই সঙ্গে বড় ধরনের আর্থিক সংকটেরও মুখোমুখি হয়েছে। আমাদের জরুরি সাড়ার অংশ হিসেবে আমরা সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলোকে নগদ সহায়তা দিচ্ছি এবং একই সঙ্গে কমিউনিটিতে সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি।’বাংলাদেশে আইএফআরসির হেড অব ডেলিগেশন আলবার্তো বোকানেগ্রা বলেন, ‘হামের এই স্বাস্থ্য জরুরি অবস্থার প্রভাব শুধু হাসপাতালের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। অসুস্থ শিশু বা পরিবারের অন্য সদস্যের যত্ন নিতে গিয়ে অনেক পরিবার কঠিন আর্থিক সীমাবদ্ধতার মুখে পড়ে। এই মূল্যায়নের ফলাফল দেখায়, জনস্বাস্থ্য জরুরি পরিস্থিতিতে মানবিক সহায়তা এবং শক্তিশালী সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা—দুটিই অত্যন্ত প্রয়োজন। আমাদের কার্যক্রম অবশ্যই তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে পরিচালিত হওয়া উচিত।’আইএফআরসি ও এর অংশীদারদের সহায়তায় বিডিআরসিএস বাংলাদেশ সরকারের দেশব্যাপী হাম টিকাদান কর্মসূচিতেও সহায়তা দিয়েছে। পাশাপাশি সংস্থাটি ১ হাজারের বেশি রেড ক্রিসেন্ট স্বেচ্ছাসেবককে মাঠে নিয়োজিত করেছে। তারা কমিউনিটিতে সচেতনতা বৃদ্ধি, টিকাদান কেন্দ্রে সহায়তা, ঝুঁকি বিষয়ে যোগাযোগ এবং মানুষকে টিকা গ্রহণ ও দ্রুত চিকিৎসা নেওয়ার জন্য উৎসাহিত করতে বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

তীব্র গরমে রূপসায় বিদ্যুতের অবরোধ, ভোগান্তির শেষ নেই

জঙ্গল থেকে শিশুপার্ক, রূপসায় নতুন ঠিকানা পেলো শৈশব

বিডিআরসিএস-আইএফআরসি জরিপে হামে আক্রান্ত প্রতি ১০ পরিবারের ৯টিই চিকিৎসার খরচ মেটাতে ঋণ নিয়েছে

হাম উপসর্গ নিয়ে ৩ শিশুর মৃত্যু, আরো আক্রান্ত ১০৮০ জন

শাহ আমানতে যাত্রীর অন্তর্বাসে মিললো দেড় কেজি সোনা

ঈদগড় সহ রামুর গ্রামীণ সড়কে ভারী যানবাহনের দাপট: ভেঙে পড়ছে সড়ক, কালভার্ট ও সেতু

বাকেরগঞ্জে হঠাৎ বালুভর্তি বস্তায় বিস্ফোরণ, শিশুসহ দগ্ধ ৩

খুলনায় নৌযান শুমারি (২০২৬) বিষয়ক অবহিতকরণ সেমিনার অনুষ্ঠিত

খুলনা জেলার বটিয়াঘাটা উপজেলা হেডকোয়ার্টার বালিকা বিদ্যালযয়ে আমীর এজাজ খান সংবর্ধনা

ঈদগাঁওতে সবুজ সবজির ঊর্ধ্বমুখী দামে নাভিশ্বাস সাধারণ মানুষ 

১০

৭০কেজি মাংসে রেখে পালালো চোরাশিকারি

১১

ঈদগাঁওতে বিদ্যুৎতের ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত : গ্রাহকরা অতিষ্ঠ 

১২

খুলনা জেলা বটিয়াঘাটা উপজেলা দিন-রাতে চরম লোডশেডিং: বিদ্যুৎ না থাকায় অতিষ্ঠ জনজীবন

১৩

চলন্ত ট্রেনে ফের পাথর নিক্ষেপ

১৪

পেটে ঢুকিয়ে ইয়াবা পাচার,শেষ রক্ষা হলো না :আটক ১

১৫

কেডিএ রূপসা নতুন বাজারকে আধুনিক, ব্যবসা বান্ধব করতে বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ

১৬

দেশের সব ডিসির জন্য জরুরি নির্দেশনা

১৭

খুলনা জেলা বটিয়াঘাটা উপজেলা দিন-রাতে চরম লোডশেডিং:জনজীবন অতিষ্ট

১৮

দুইদিন বন্ধ থাকার পর বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন শুরু

১৯

কর্ণফুলী নদীতে ভাসতে থাকা বস্তা থেকে তরুণীর মরদেহ উদ্ধার

২০