মোল্লা জাহাঙ্গীর আলম :
তীব্র দাবদাহের মধ্যে রূপসা উপজেলাকে কার্যত বিদ্যুতের অবরোধে ফেলে রাখা হয়েছে। বাগেরহাট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির রূপসা সাব-জোনাল অফিসের চরম অব্যবস্থাপনা ও গাফিলতির কারণে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে লাখো মানুষের জনজীবন।২৪ ঘণ্টায় দিনে ৪-৫ বার এবং রাতে ৫-৬ বার বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। প্রতিবার দেড় থেকে দুই ঘণ্টা করে বিদ্যুৎহীন থাকছে পুরো উপজেলা। এর ফলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সরকারি অফিস, হাসপাতাল, দোকান-পাট, মিল-কারখানা ও কৃষি সেচ ব্যবস্থা সবকিছুই কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।রাতের বেলায় দীর্ঘ লোডশেডিংয়ে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শিক্ষার্থী ও অসুস্থ-বয়স্ক মানুষ। স্কুল শিক্ষক বাবু প্রণব বিশ্বাস ক্ষোভের সাথে বলেন, “রাতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় ছেলে-মেয়েরা পড়াশুনায় সম্পূর্ণভাবে ভেঙে পড়েছে। এই গরমে না ঘুমানো যায়, না পড়া যায়।গ্রাহকদের অভিযোগের কোনো সুরাহা নেই। অভিযোগ করতে গেলে রূপসা পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের এজিএম ছুটিতে। জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার সুশান্ত পালও কথা বলতে রাজি হননি। দায়িত্বপ্রাপ্ত কেউই জনদুর্ভোগের জবাব দিতে নারাজ।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা বলেন, “গ্রিড থেকে চাহিদার তুলনায় কম বিদ্যুৎ পাওয়ায় বাধ্য হয়ে লোডশেডিং দিতে হচ্ছে। কিন্তু গ্রাহকদের প্রশ্ন, জাতীয় সংকটের দোহাই দিয়ে আর কতদিন এই নৈরাজ্য চলবে? সমবণ্টনের নামে রূপসার মানুষ কেন বারবার বঞ্চিত হবে?ভুক্তভোগীদের দাবি, অবিলম্বে লোডশেডিং কমিয়ে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে।
মন্তব্য করুন