Bntv245487
৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২:৩১ অপরাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

বিশেষ সাক্ষাৎকারে ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এ এস এম সালেহ আহমেদ।

নিজস্ব প্রতিনিধি:আবিদুর রহমান আলিফ

ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব বলেন, আমাদের বর্তমান ভূমি ব্যবস্থা মূলত ব্রিটিশ আমল থেকে চলে আসছে। ১৭৯৩ সালে লর্ড কর্নওয়ালিস যখন ‘চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত’ চালু করেন, তখন থেকেই এই জটিলতার গোড়াপত্তন। ব্রিটিশদের লক্ষ্য ছিল সর্বোচ্চ রাজস্ব আদায় করা। তবে, সেখানে মূল গলদ ছিল— যুক্তরাজ্যের ল্যান্ডলর্ডরা প্রকৃত জমির মালিক হলেও এ দেশের জমিদাররা মালিক ছিলেন না, তারা ছিলেন মূলত খাজনা আদায়কারী মধ্যস্বত্বভোগী। তারা একটা নির্দিষ্ট হারে খাজনা আদায় করতেন এবং সেটা সরকারের কাছে জমা দিতেন। বাকিটা তারা নিজেরা ব্যবহার করতেন। আরাম–আয়েশে সময় কাটাতেন। কিন্তু আস্তে আস্তে দেখা গেল, তাদের এই খাজনা আদায়ের সঙ্গে আরও কিছু মধ্যস্বত্বভোগী যুক্ত হয়ে গেল। এই যে নায়েব, তালুকদার, চৌধুরী— তারা প্রজাদের ওপর নির্যাতন বাড়ায়, যা আমাদের সামাজিক কাঠামো ভেঙে দেয়। তখন ভূমির আসল চাষীদের বলা হতো ‘রায়ত’ বা প্রজা। পরবর্তীকালে ১৯৫০ সালে শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকের উদ্যোগে ‘স্টেট অ্যাকুইজিশন অ্যান্ড টেন্যান্সি অ্যাক্ট’ (SAT Act)-এর মাধ্যমে জমিদারি প্রথা বিলুপ্ত হয় এবং ১৯৫৫ সালে বেঙ্গল টেন্যান্সি অ্যাক্ট বা প্রজাস্বত্ব আইন করা হয়। এতে রায়ত বা প্রজাদের বদলে ‘ভূমি মালিক’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। তবে, সিএস ও আরএস (রিভিশনাল সার্ভে) জরিপের পর থেকে রেকর্ড হালনাগাদ ও সংরক্ষণের সঠিক ব্যবস্থা ছিল না। কোথাও জরিপ শেষ হয়নি, আবার কোথাও ঘুষ লেনদেন ও অসততার মাধ্যমে অন্যের জমি অন্য নামে রেকর্ড হয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছিল দালাল চক্র। তা ছাড়া ১৯৪৭ সালের দেশভাগ, ১৯৬৫ সালের যুদ্ধ ও ১৯৭১ সালের যুদ্ধের পর যথাক্রমে ‘বিনিময় সম্পত্তি’, ‘শত্রু সম্পত্তি’, ‘অর্পিত সম্পত্তি’ ও ‘পরিত্যক্ত সম্পত্তি’ তৈরি হয়ে আইনি জটিলতা আরও বাড়ায়। দুর্ভাগ্যবশত, গত ১৭ বছরে এসব আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতা নিরসনে কার্যকর কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি। এ পর্যায়ে তিনি বলেন, অটোমেটেড ভূমি সেবা চালুর ক্ষেত্রে মূল চ্যালেঞ্জ ছিল রেকর্ডপত্রের ভুল-ভ্রান্তি ও দুষ্প্রাপ্যতা। এই জটিলতা কাটাতে আমরা ইউএনডিপির কারিগরি সহায়তায় দেশব্যাপী নতুন এন্ট্রি ও হালনাগাদ রেকর্ড সংশোধনের কাজ শুরু করেছি। ইতোমধ্যে সফল পাইলটিং শেষে দেশের সর্বমোট ৬১টি জেলায় এই ডিজিটাল সংশোধন কার্যক্রম পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, মাঠ প্রশাসনে বদলির তদবির এখন ক্যানসারের মতো রূপ নিয়েছে। এই সংস্কৃতি বন্ধে ন্যূনতম ২ বছর পদায়নের নীতি ও কড়া পরিপত্র জারি করা হচ্ছে। কোনো কর্মকর্তা যদি কোনো তৃতীয় পক্ষ, সংসদ সদস্য বা প্রভাবশালী ব্যক্তিকে দিয়ে বদলির অসৎ তদবির করান, তবে তাঁর বিরুদ্ধে কোনো ছাড় না দিয়ে সরাসরি বিভাগীয় মামলা দায়ের করা হবে।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

খুলনা জেলা পুলিশের ৪র্থ শ্রেণির সিভিল স্টাফদের মধ্যে সরকারি মালামাল হস্তান্তর

ডুমুরিয়ায় রঙিন তরমুজ চাষে চমক: স্বাবলম্বী কৃষাণি মিতালী মণ্ডল

কেসিসির ৬০১ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা

সংঘাত-প্রতিশোধ নয়, সহনশীল রাজনীতি করার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

আটক ব্যক্তিকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার না দেখালে ‘গুম’ হিসেবে গণ্য হবে

লবনচরা থানা পুলিশ কর্তৃক ০৩ টি হারানো এন্ড্রয়েড মোবাইল ফোন উদ্ধারপূর্বক প্রকৃত মালিকের নিকট হস্তান্তর: কেএমপি

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত হাসিনা আপিলের সুযোগ পাবেন না

বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা কৃতী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংযোগ গড়ছে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়

বিশ্বনাথে সিডস অব সাদাকাহ’র উদ্যোগে ৪টি অসহায় পরিবারকে নবনির্মিত ঘর হস্তান্তর।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সারাদেশে শ্রেষ্ঠ কুমিল্লার পুলিশ সুপার

১০

কয়রায় ফাঁকা স্ট্যাম্প সংবলিত ফাইল নিখোঁজ, থানায় সাধারণ ডায়েরি

১১

আখাউড়ায় ১০ কেজি গাঁজা উদ্ধার, পলাতক আসামি জহিরুল ইসলামকে গ্রেফতার করার জন্য পুলিশের অভিযান, অব্যাহত!

১২

খুলনা জেলা ক্রীড়া সংস্থা নির্বাচন -২০২৬ বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হলেন বটিয়াঘাটা উপজেলার এমডি খায়রুল ইসলাম জনি।

১৩

প্রধানমন্ত্রী দেশের‌ ১ কোটি মানুষকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তরের উদ্যোগ নিয়েছেন – ড. মুজিবুর রহমান।

১৪

🏆 জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন মোহনপুর।

১৫

রূপসায় ৮ দলীয় ফুটবলের প্রথম পর্ব শেষ, জয় পেল পুটিমারি সততা একাদশ।

১৬

প্রথম দফায় কৃষি কার্ড পাবেন ২৩ হাজার কৃষক, ফুলতলা সহ ৯ উপজেলা,

১৭

কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিকায়নে এডিবির ১৮০ মিলিয়ন ডলারের প্রকল্প: ইউজিসি

১৮

গবেষণার সুফল প্রান্তিক মানুষের কাছে পৌঁছাতে হবে: ইউজিসি সদস্য ড. আসলাম হোসেন।

১৯

কয়রায় এনজিওকর্মী থেকে জুয়ার মাস্টার এজেন্ট সামাদ

২০