নিজেস্ব প্রতিনিধি:মনোনয়ন না পেয়ে অর্ধশতাধিক আসনে ‘অভিমানী নেতারা’ স্বতন্ত্র হিসেবে নির্বাচনের মাঠে আবির্ভূত হয়েছেন। বিদ্রোহী হিসেবে বিবেচিত হওয়ায় এসব প্রার্থী দলের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, বিদ্রোহী প্রার্থীরা শেষ পর্যন্ত মাঠে থাকলে ধানের শীষের বিজয়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে পারেন। তাই নির্বাচনের মাঠ থেকে তারা যাতে সরে যান, সেজন্য দলের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে নানা উদ্যোগ। বিএনপির পক্ষ থেকে এরই মধ্যে সারা দেশে দলের স্বতন্ত্র বা বিদ্রোহী প্রার্থীদের তালিকা সংগ্রহ করা হয়েছে। এরই মধ্যে সিদ্ধান্ত অমান্য করে জোট এবং ধানের শীষের বিরুদ্ধে প্রার্থী হওয়ায় ৯ নেতাকে বহিষ্কার করেছে বিএনপি। অন্যান্য আসনেও যারা ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী হয়েছেন, তাদের বিরুদ্ধেও শিগগির সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে দল।এদিকে একটি সূত্র বলছে, বিগত আন্দোলন-সংগ্রামে ত্যাগের কথা বিবেচনায় এসব নেতার ব্যাপারে দল এখনো নমনীয়। তাই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে তাদের বুঝিয়ে নির্বাচন থেকে সরানোর চেষ্টা করবে বিএনপি। এজন্য প্রাথমিকভাবে দলের সাংগঠনিক সম্পাদকসহ সংশ্লিষ্টদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান নিজেও তাদের সঙ্গে বসতে পারেন। এ ক্ষেত্রে আগামী ২০ জানুয়ারি মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন পর্যন্ত দেখবে বিএনপি। তারপরও নির্বাচনের মাঠে থাকলে তাদের বিরুদ্ধে বহিষ্কারের মতো কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে দল।বিএনপির প্রত্যাশা, তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তে স্বতন্ত্র হিসেবে মনোনয়ন জমা দিলেও অভিমান ভেঙে তারা শেষ পর্যন্ত নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াবেন। এর মাধ্যমে সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আগামী নির্বাচনে ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত হবে। এদিকে স্বতন্ত্র বা অন্য কোনো ব্যানারেও বিএনপির নেতারা নির্বাচনের মাঠে থাকুক, সেটা চান না দলটির সঙ্গে আসন সমঝোতা হওয়া যুগপৎ জোটের প্রার্থীরা। সংশোধিত আরপিও অনুযায়ী যারা তাদের নিজেদের প্রতীকে নির্বাচন করছেন। তারা বলছেন, জনপ্রিয়তা এবং সাংগঠনিক শক্তি বিবেচনায় বিএনপি বৃহৎ রাজনৈতিক দল। সেই দলের নেতারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচনের মাঠে থাকলে সেটা তাদের জন্য ফল বিপর্যয়ের কারণ হতে পারে।নির্বাচন সামনে রেখে একাধিক মাঠ জরিপের ফল বিশ্লেষণ এবং দলের সম্ভাব্য সব প্রার্থীকে নিয়ে ঢাকায় বৈঠকের পর কেন্দ্র থেকে মনোনয়ন দেয় বিএনপি। দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়, একাধিক প্রার্থীর মধ্য থেকে সবচেয়ে যোগ্য প্রার্থীকেই মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। তবে দুই দফায় ২৭২ আসনে দলীয় মনোনয়ন ঘোষণার পর প্রার্থী পরিবর্তনের দাবিতে অর্ধশতাধিক আসনে বেশ কিছুদিন ধরে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। এ অবস্থায় শেষ মুহূর্তে ১৫টির মতো আসনে প্রার্থী পরিবর্তন করে বিএনপি। পরে কেন্দ্রের সিদ্ধান্ত না মেনে শতাধিক আসনে স্বতন্ত্র বা বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন বিএনপি নেতারা। এর মধ্যে যাচাই-বাছাইয়ের পর নির্বাচনের মাঠে এখনো অর্ধশতাধিক নেতা রয়ে গেছেন। গত ২৯ ডিসেম্বর ছিল ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন। এর পরদিনই দলের সহ-আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা, জাতীয় নির্বাহী কমিটির আরও চার সদস্যসহ ৯ জনকে বহিষ্কার করে দলটি।বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, নির্বাচনের সব মনোনয়ন প্রক্রিয়া যখন শেষ হয়ে যাবে, সে পর্যন্ত আমরা দেখব। এরপর যদি কেউ থাকে, তাদের ব্যাপারে দল তখন সিদ্ধান্ত নেবে। একেবারে কঠিন সিদ্ধান্ত খুব সহজে তো আমরা নিতে পারি না, বিএনপি গণতান্ত্রিক একটা দল।দলটির স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদের সঙ্গে সমঝোতার ভিত্তিতে আমরা কিছু আসন ছেড়ে দিয়েছি; যদিও ওই আসনগুলো বিএনপির জন্য একবারে বিজয়ী হওয়ার মতো আসন। এখনো যারা স্বতন্ত্র প্রার্থী আছে, সেসব জায়গায় ধানের শীষও আছে। তাদের আমরা আগামী ১৯ জানুয়ারি পর্যন্ত দেখব, তাদের বোঝাব। তারপরও তারা যদি মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার না করে, তখন সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে শরিকদের জন্য ১৬টি আসন ছেড়ে দিয়েছে বিএনপি। এর মধ্যে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশকে পাঁচটি (নিবন্ধিত ও অনিবন্ধিত মিলিয়ে), গণতন্ত্র মঞ্চকে তিনটি, জাতীয়তাবাদী সমমনা জোটকে একটি, গণঅধিকার পরিষদকে একটি আসন ছেড়েছে। এদের মধ্যে নিবন্ধিত শরিকরা তাদের নিজেদের প্রতীকে নির্বাচন করছে। আর অনিবন্ধিত শরিকরা বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকে ভোট করছে। সমঝোতা অনুযায়ী, বিএনপি সেখানে তাদের দলীয় প্রার্থী দেবে না। এ ছাড়া বিজয় নিশ্চিতে কৌশলের অংশ হিসেবে শরিক কয়েকটি দলের নেতাদের বিএনপিতে যোগদান করিয়ে ‘ধানের শীষ’ দেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে দু-তিনজন নিজেদের দল বিলুপ্ত করে বিএনপিতে যোগদান করেন।সমঝোতা অনুযায়ী, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক ঢাকা-১২; গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬; নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বগুড়া-২; গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর পটুয়াখালী-৩; জমিয়তের সভাপতি মাওলানা মোহাম্মদ উবায়দুল্লাহ ফারুক সিলেট-৫, সহসভাপতি মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২, মহাসচিব মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী নীলফামারী-১ এবং কেন্দ্রীয় নেতা মুফতি মনির হোসাইন কাসেমী নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে নিজেদের দলীয় প্রতীকে ভোট করছেন। এ ছাড়া ১২ দলীয় জোটভুক্ত ‘অনিবন্ধিত’ জমিয়তের যুগ্ম মহাসচিব রশিদ বিন ওয়াক্কাস যশোর-৫ আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করছেন। অন্যদিকে বিএনপিতে যোগ দিয়ে গণঅধিকার পরিষদের রাশেদ খান ঝিনাইদহ-৪, এলডিপির রেদোয়ান আহমদ কুমিল্লা-৭, বাংলাদেশ এলডিপির শাহাদাত হোসেন সেলিম লক্ষ্মীপুর-১, বাংলাদেশ জাতীয় দলের সৈয়দ এহসানুল হুদা কিশোরগঞ্জ-৫, এনডিএমের ববি হাজ্জাজ ঢাকা-১৩ থেকে ভোট করছেন ধানের শীষে। এ ছাড়া বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঢাকা-১৭ আসন থেকে ভোট করায় শরিক বিজেপির চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ ভোলা-১ থেকে নির্বাচন করছেন।ধানের শীষ না পেয়ে নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার
মন্তব্য করুন