নিজেস্ব প্রতিনিধি মাহিয়া আক্তার:দেখতে দেখতে পার হলো ১৮ রমজান। ঈদকে সামনে রেখে জমে উঠেছে খুলনার পোশাক বাজার। প্রতিটি মার্কেটে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলছে ক্রেতাদের আনাগোনা। আয়ের তুলনায় পণ্যের দাম বেশি থাকায় অনেকেই ছুটছেন ফুটপাথের দোকানগুলোতে। থেমে নেই অভিজাত শপিং মার্কেটের দোকানগুলো। বিক্রি বেড়েছে ১৪ রমজান থেকে। সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন-বোনাস পাওয়ার পর ঈদ মার্কেট জমে উঠেছে বলে জানান ব্যবসায়ীরা।গতকাল শনিবার নগরীর ব্যস্ততম সড়কের মোড়ের ফুটপাথের দোকান থেকে শুরু করে অভিজাত শপিং সেন্টারগুলোতে ভিড় দেখা যায়। তবে এ সময় যে জিনিসটি বেশি লক্ষণীয় তা হলো পুরুষদের তুলনায় নারীদের পোশাকের দোকানগুলোতে ভিড় অনেক বেশি। বিশেষ করে থ্রি-পিস, গাউন, লেহেঙ্গা ও বিভিন্ন ফ্যাশনেবল পোশাকের দোকানগুলোতে নারী ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় পরিলক্ষিত হয়েছে।নগরীর প্রাণ কেন্দ্র আখতার চেম্বার, হাজী মালেক চেম্বার, এশা চেম্বার, পিকচার প্যালেস, খুলনা শপিং কমপ্লেক্স, রব সুপার মার্কেট, শহিদ সোহরাওয়ার্দী বিপণি বিতান, রেলওয়ে বিপণি বিতান, জব্বার মার্কেট, খানজাহান আলী হকার্স মার্কেট, নিউ মার্কেটসহ বড় ও মাঝারি মার্কেটগুলোলো ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে। তবে অভিজাত মার্কেটের তুলনায় মধ্যম সারির মার্কেট ও ফুটপাতে পণ্যের দাম কম হওয়ায় সেখানে বিক্রি ভালোই হচ্ছে বলে জানান দোকানিরা।ডাকবাংলো মোড় হাজী মালেক চেম্বারের সামনে ফুটপাথের দোকানি সজীব বলেন, প্রথম থেকে দশ রমজান পর্যন্ত তেমন কোনো বিকিকিনি ছিল না। চাকরিজীবীদের বেতন ও ঈদ বোনাস পাওয়ার পর সবেমাত্র বেচাকেনা শুরু হয়েছিল। কিন্তু সম্প্রতিক ডাকবাংলো মোড়ে একটি খুনের ঘটনায় আবারও পতন শুরু হয়। তবে যা হচ্ছে তা মোটামুটি ভালো। তিনি ছেলেদের গেঞ্জি ও শার্ট বিক্রি করছেন। প্রতিপিস গেঞ্জি দেড়শ টাকা থেকে শুরু করে তিনশ’ টাকা পর্যন্ত দর হাঁকাচ্ছেন।মালেক চেম্বারের সামনে কিছুদূর হেঁটে দেখা মেলে ফুটপাতের ক্ষুদ্র বিক্রেতা হাসিবের সাথে। বাচ্চাদের কাপড় রয়েছে তার দোকানে। তিনি বলেন, বেচাকেনা কম ছিল। কিন্তু ১৫ রমজানের পর থেকে বিক্রি বেড়েছে।রেলওয়ে বিপণি বিতানের (নিক্সন মার্কেট) ব্যবসায়ী মাসুম বলেন, ছেলেদের পোশাক বেশি তার দোকানে। ৩০০ টাকা থেকে শুরু করে ১২০০ টাকা পর্যন্ত মূল্যের প্যান্ট রয়েছে তার দোকানে। দু’দিন ধরে বেড়েছে বিক্রি। সামনে আরও বাড়বে বলে তিনি আশাবাদী।খুলনা শপিং সেন্টার অভিজাত মার্কেট বলে পরিচিত। দুপুর দেড়টার দিকে ওই শপিং মলের ঐশিকা ফ্যাশনের মালিক উৎপল দত্ত বলেন, সুতি কাপড়ের থ্রি-পিস, জর্জেট, অর্গান জা, জিমুচি ও ফারসি গাউন নামের পোশাকের চাহিদা এবারের ঈদে ব্যাপক। তরুণী ও উঠতি বয়সের নারীদের এই পোশাকের চাহিদা বেশী।
মন্তব্য করুন