bntv24
১৫ জুন ২০২৬, ১২:১০ অপরাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

কেশবপুরে কৃষকের পাশে কৃষি বিভাগ, মাঠেই মিলছে সমাধান

পরেশ দেবনাথ, বিশেষ প্রতিনিধি

যশোরের কেশবপুর উপজেলার সদর ইউনিয়নের আলতাপোল গ্রামের কৃষক ও সাংবাদিক জি. এম. মিন্টু’র ১০ শতক সুস্থ-সবল ওলক্ষেতে হঠাৎ করে গোড়া পচা রোগ দেখা দেওয়ায় দুশ্চিন্তায় পড়ে যান তিনি। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে কেশবপুর উপজেলা কৃষি অফিসের নজরে পড়ে। কেশবপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আব্দুল্লাহ আল মামুন তাৎক্ষণিকভাবে গুরুত্বের সঙ্গে বিষয়টি বিবেচনা করেন। তিনি উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোঃ কবির হোসেনকে ঘটনাস্থলে পাঠিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষেত পরিদর্শনের নির্দেশ দেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কৃষক জি. এম. মিন্টু চলতি মৌসুমে প্রায় ১০ শতক জমিতে ওল চাষ করেন। জমিটি উঁচু স্থানে অবস্থিত, বেলে মাটির হওয়ায় পানি জমার আশঙ্কা নেই বললেই চলে। পাশাপাশি পর্যাপ্ত সূর্যালোকও পায় ক্ষেতটি। ফলে শুরুতে গাছের বৃদ্ধি ছিল সন্তোষজনক। কিন্তু কয়েকদিন আগে হঠাৎ কয়েকটি গাছের গোড়ায় পচন দেখা দেয়। পরে একে একে আরও কিছু গাছে একই উপসর্গ দেখা দিলে কৃষক দিশেহারা হয়ে পড়েন। ক্ষেত পরিদর্শনে দেখা যায়, আক্রান্ত গাছের গোড়ায় বাদামি ও কালচে দাগ তৈরি হয়েছে। কিছু স্থানে সাদা ছত্রাকের মতো আবরণও লক্ষ্য করা গেছে। ফলে গাছ দুর্বল হয়ে পড়ে এবং পরে মাটিতে ঢলে পড়ে। কৃষকের আশঙ্কা, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে রোগটি পুরো ক্ষেতে ছড়িয়ে পড়তে পারে।এ বিষয়ে কৃষক জি এম মিন্টু বলেন, ‘অনেক আশা নিয়ে ওলের আবাদ করেছি। জমির অবস্থান ভালো, পানি জমে না, নিয়মিত পরিচর্যাও করেছি। তারপরও হঠাৎ গোড়া পচা রোগ দেখা দিয়েছে। কয়েকটি গাছ ইতোমধ্যে নষ্ট হয়ে গেছে। এতে আমি আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছি।রোববার (১৪ জুন-২৬) উপজেলা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোঃ কবির হোসেন কৃষক জি. এম. মিন্টু’র ওলক্ষেত পরিদর্শনকালে তিনি বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে এটি ছত্রাকজনিত গোড়া পচা রোগ বলে মনে হচ্ছে। আক্রান্ত গাছগুলো দ্রুত অপসারণ করে ক্ষেত পরিষ্কার রাখতে হবে। পাশাপাশি রোগের বিস্তার রোধে কৃষি বিভাগের পরামর্শ অনুযায়ী অনুমোদিত ছত্রাকনাশক ব্যবহার করতে হবে। জমিতে যাতে অতিরিক্ত আর্দ্রতা না থাকে সেদিকেও নজর দিতে হবে। কৃষককে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হয়েছে এবং আমরা বিষয়টি পর্যবেক্ষণে রাখছি।
তিনি আরও বলেন, ‘কৃষকদের যেকোনো সমস্যা দ্রুত কৃষি অফিসকে জানানো উচিত। সময়মতো সঠিক পরামর্শ পেলে অধিকাংশ রোগবালাই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়। কৃষি বিভাগ সবসময় কৃষকের পাশে রয়েছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আব্দুল্লাহ আল মামুন সাংবাদিকদের জানান, কৃষকদের ফসলের যেকোনো সমস্যা গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের নিয়মিত তদারকির মাধ্যমে দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে, যাতে কৃষকরা ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পান। মাঠ পর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তাদের নিয়মিত উপস্থিতি ও পরামর্শ কৃষকদের আস্থা বাড়ানোর পাশাপাশি কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে কৃষকরা মনে করেন।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

চট্টগ্রামে মা ও মেয়েকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত আসামী আটক

নগরীর আড়ংঘাটা থেকে অস্ত্র ও গুলিসহ দুই যুবক গ্রেপ্তার

খুলনার ফুলতলায় ৭পিস ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার ও ওয়ারেন্টভুক্ত আরও ৪ আসামি আদালতে প্রেরণ

খুলনার কয়রা ত্রাণের টাকা পেলেন জামায়াত এমপির এপিএস, আত্মীয়স্বজন

চলতি সপ্তাহেই খুলনা সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল চালুর সম্ভাবনা

কেশবপুরে কৃষকের পাশে কৃষি বিভাগ, মাঠেই মিলছে সমাধান

সোনাডাঙ্গা মডেল থানার ওসির সাথে ‘নিরাপদ খুলনা চাই’ থানা কমিটির মতবিনিময়

মুঠোফোনে আসক্ত ঈদগাঁওর তরুন-যুব প্রজন্ম, অনলাইনে ঝুঁকছে

সংবিধানের ৭০ ধারা বাতিল আন্দোলন: এক দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের ইতিহাস

ক্রিকেটার নাঈমকে হেনস্তার ঘটনায় খুলশী থানার ওসি প্রত্যাহার

১০

সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ গ্রেপ্তার

১১

দেশের সাধারণ ও খেটে খাওয়া মানুষের কল্যাণেই এ বাজেট : এমপি তাহসিনা রুশদীর লুনা

১২

ড্র নিয়ে বিশ্বকাপ শুরু ব্রাজিলের

১৩

ডুমুরিয়ার চুকনগর হাটে ঝাঁকি জালের ধুম, মৎস্য ঘের ও বর্ষার আমেজে জমজমাট বেচাকেনা

১৪

আবু সাঈদ হত্যা মামলার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ, রায়ের অপেক্ষায় আরও ৩ মামলা

১৫

রামিসা হত্যা : মৃত্যুদণ্ডের বিরুদ্ধে দুই আসামির আপিলের শুনানি গ্রহণ হাইকোর্টে

১৬

১৭

সংবিধানের ৭০ ধারা বাতিল আন্দোলন: এক দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের ইতিহাস

১৮

রাজশাহীতে চোলাই মদ সহ গ্রেপ্তার ৪

১৯

মৌলভীবাজারে সকাল থেকে টানা বৃষ্টি, জনজীবনে স্বস্তি ও ভোগান্তি প্রতিবেদন

২০