উত্তরবঙ্গের সীমান্তবর্তী জেলা জয়পুরহাট। আলু উৎপাদনে শীর্ষ অবস্থানে থাকা এই জেলায় রোপা আমন ধান কাটার পর আগাম আলুর বীজ রোপণে ব্যস্ত সময় পার করছেন আলু চাষীরা। ধান কাটা শেষ করে জমি প্রস্তুত, হালচাষ, সার ছিটানোসহ আলু রোপণের সব প্রস্তুতি নিচ্ছেন প্রান্তিক কৃষকরা।
তবে বিগত বছরের মতো এ বছরও তীব্র সার সংকটে ভুগছেন তারা। এই সংকটকে কাজে লাগিয়ে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী সারের অতিরিক্ত দাম নিচ্ছেন বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি আলু উৎপাদন হলেও দাম না পাওয়ায় লোকসানে পড়েছিলেন কৃষকরা। সেই লোকসানের বোঝা মাথায় নিয়েই তারা আবার আলু চাষের প্রস্তুতি নিচ্ছেন, কিন্তু সার না পাওয়ায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
আলু চাষীরা অভিযোগ করে বলেন, “বেশি দাম দিয়েও সার পাচ্ছি না। বীজ রোপণের সময় চলে এসেছে কিন্তু জমি প্রস্তুতের সব কাজই সারের অভাবে আটকে আছে। এভাবে চললে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।”
ডিলাররা জানান, বরাদ্দের তুলনায় কৃষকের চাহিদা বেশি হওয়ায় যোগান কম পড়ছে। বরাদ্দ বৃদ্ধি করা হলে সংকট কিছুটা কমবে বলে তারা মনে করছেন।
এ বিষয়ে জয়পুরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক একেএম সাদিকুল ইসলাম বলেন, “গত বছর আলু উৎপাদন বেশি হওয়ায় কৃষকরা ভালো দাম পাননি। এ কারণে এ বছর জেলায় ৩৯ হাজার হেক্টর জমিতে আলু লাগানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। আগাম আলু চাষে ৫ হাজার হেক্টর জমির লক্ষ্য থাকলেও বৃষ্টির কারণে এখন পর্যন্ত মাত্র ৫০০ হেক্টর জমিতে রোপণ সম্ভব হয়েছে। তারপরও আমরা লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের বিষয়ে আশাবাদী।”
মন্তব্য করুন