নিজেস্ব প্রতিনিধি মাহিয়া আক্তার :বাংলাদেশে সরকার পরিবর্তনের পর ভারত আবারও সব ধরনের ভিসা পরিষেবা পূর্ণমাত্রায় চালু করতে যাচ্ছে। ঢাকায় অবস্থিত ভারতের হাইকমিশন জানিয়েছে, পর্যটন, কর্মসংস্থান (এমপ্লয়মেন্ট) ও শিক্ষার্থী ভিসাসহ সব ক্যাটাগরির ভিসা “আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে” পুনরায় চালু করা হবে।বৃহস্পতিবার রাতে সিলেটে এক বক্তব্যে জ্যেষ্ঠ কনস্যুলার কর্মকর্তা অনিরুদ্ধ দাস জানান, বর্তমানে কেবল মেডিকেল ও ডাবল-এন্ট্রি বিজনেস ভিসা দেওয়া হচ্ছে। তবে পূর্ণাঙ্গ ভিসা কার্যক্রম পুনরুদ্ধার এখন অগ্রাধিকার পাচ্ছে।পটভূমি ২০২৪–২৫ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের সময় কূটনৈতিক টানাপোড়েনের কারণে ভারত ভিসা প্রদান সীমিত করেছিল। সাম্প্রতিক নির্বাচনে বিএনপির নিরঙ্কুশ জয় এবং প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের দায়িত্বগ্রহণের পর দুই দেশের সম্পর্কে নতুন গতি এসেছে।দুই দেশই মনে করছে, সহজ ভ্রমণ ও যাতায়াত ব্যবস্থা সীমান্তবর্তী বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে তৈরি পোশাক, ওষুধশিল্প ও আইটি খাত—যেখানে প্রকৌশলী, ক্রেতা ও বিশেষজ্ঞদের নিয়মিত যাতায়াত প্রয়োজন—এই সিদ্ধান্তে উপকৃত হবে।ব্যবসা-বাণিজ্যে প্রভাব ভারতীয় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য এই সিদ্ধান্ত ইতিবাচক বলে মনে করা হচ্ছে। এতদিন অনেক প্রতিষ্ঠান ভিসা প্রক্রিয়ার জন্য তৃতীয় দেশে ব্যবহৃত ভিসা যেমন সিঙ্গাপুর যা সময় ও ব্যয় বাড়ানোর মাধ্যমে ভিসা চালু হলে প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় কমবে।অন্যদিকে, বিদ্যুৎ ও অবকাঠামো খাতে ভারতীয় বিশেষজ্ঞ নিয়োগকারী বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোও নিয়মিত প্রবেশাধিকার পাবে। তবে পর্যটন ভিসা চালু হলে শুরুতে আবেদনজট তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।আবেদনকারীদের জন্য নির্দেশনা ভিসার নতুন অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্লট শিগগিরই আইভ্যাক ইন্টিগ্রেটেড ভিসা এপ্লিকেশন সেন্টার (আইএসি) পোর্টালে প্রকাশ করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের আপডেটেড আমন্ত্রণপত্র প্রস্তুত রাখা পাসপোর্টের ন্যূনতম ছয় মাসের মেয়াদ নিশ্চিত করা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আগেভাগে প্রস্তুত রাখা।বিশেষ করে কলকাতা–ঢাকা রুটে নিয়মিত কর্মী রোটেশনে থাকা কোম্পানিগুলোকে নতুন ভিসা সময়সূচির সঙ্গে মিল রেখে পরিকল্পনা হালনাগাদ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
মন্তব্য করুন