আহমেদ রাজু, বিশেষ প্রতিনিধি:রাজধানীর একটি সংঘবদ্ধ চক্রের বিরুদ্ধে বিয়ের নাটক সাজিয়ে স্ট্যাম্প ও চেকে স্বাক্ষর নেওয়া, লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া এবং মিথ্যা মামলার ভয় দেখিয়ে ব্ল্যাকমেইল করার অভিযোগ উঠেছে।সিফাত নাহার সুমি নামের এক নারী এবং তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে এই সুপরিকল্পিত প্রতারণার অভিযোগ তুলেছেন তার ভুক্তভোগী স্বামী।ঘটনার সূত্রপাত ও অর্থ আত্মসাৎ ভুক্তভোগীর ভাষ্যমতে, প্রেমের সম্পর্কের সুযোগ নিয়ে সুমি প্রথমে তাকে শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত করেন। পরবর্তীতে সরকারি চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ভুক্তভোগীর পরিচিত দুই ব্যক্তির কাছ থেকে ১২ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেন। কিন্তু চাকরি বা টাকা কোনোটিই ফেরত দেননি তিনি। অস্ত্রের মুখে জিম্মি ও জোরপূর্বক বিবাহভুক্তভোগী জানান, ২০২২ সালের ২২ জানুয়ারি বিয়ের আলোচনার কথা বলে তাকে ও তার মাকে বাসায় ডেকে নেওয়া হয়।সেখানে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয়ধারী ব্যক্তি, আইনজীবী ও রাজনৈতিক নেতার উপস্থিতিতে তাদের মারধর করা হয়। নগদ অর্থ ও স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি সিআইডি কর্মকর্তার পিস্তলের মুখে ৩০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প ও ব্যাংক চেকে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেওয়া হয়।পরবর্তীতে ধর্ষণ মামলার ভয় দেখিয়ে ও ১০ লক্ষ টাকা কাবিনে তাকে বিয়ে করতে বাধ্য করা হয়।প্রতারণার পুনরাবৃত্তি ও বৈবাহিক অশান্তিবিয়ের পর বিভিন্ন অজুহাতে আরও কয়েক লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পর সুমি ভুক্তভোগীকে ডিভোর্স দেন এবং একের পর এক মামলা ঠুকে দেন।৫ই আগস্টের রাজনৈতিক পদপরিবর্তনের পরও এই চক্রের দাপট কমেনি বলে ভুক্তভোগীর অভিযোগ। চাপের মুখে দ্বিতীয়বার বিয়ে করলেও সুমি তার অবাধ্য চলাফেরা, পরকীয়া এবং উচ্ছৃঙ্খল জীবনযাপন অব্যাহত রাখেন। এমনকি শারীরিক নির্যাতনের মিথ্যা নাটক সাজিয়ে ভুক্তভোগী কে সামাজিকভাবে হেও প্রতিপন্ন করার চেষ্টাও চালান।পরিকল্পিত ব্ল্যাকমেইল চক্র
অনুসন্ধানে জানা যায়, সুমি ইতিপূর্বেও তার প্রথম স্বামীর সাথে একই কায়দায় প্রতারণা করেছেন। প্রথম স্বামীর নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে প্রশাসন ও রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বড় অঙ্কের টাকা ও স্বর্ণালংকার আদায় করেছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, এই কাজে সুমির বড় ভাই রতন, বোন শামসুন্নাহার রুমি এবং ভাগ্নে শুভসহ একটি শক্তিশালী চক্র সরাসরি জড়িত। তারা মূলত বিত্তবানদের টার্গেট করে বিয়ের ফাঁদে ফেলে অর্থ আদায়কে পেশা হিসেবে নিয়েছে।বর্তমান পরিস্থিতিভুক্তভোগী জানান, গত ঈদুল ফিতরের পর থেকে সুমি সমস্ত যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছেন। ডিভোর্সের জন্য চাপ দিচ্ছেন এবং দাবি না মানলে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছেন। এ সংক্রান্ত কল রেকর্ড ও তথ্যপ্রমাণ ভুক্তভোগীর কাছে সংরক্ষিত আছে। বর্তমানে তিনি চরমনিরাপত্তাহীনতা ও সামাজিক মান-সম্মান হারানোর শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন।এই চক্রের হাত থেকে বাঁচতে এবং ন্যায়বিচার পেতে মিডিয়া এবং প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন অসহায় এই ব্যক্তি।
মন্তব্য করুন