ডুমুরিয়া, নিজস্ব প্রতিনিধি জি. এম. ফিরোজ
সেতু নির্মাণ শেষ হয়েছে প্রায় দুই বছর আগে। দাঁড়িয়ে আছে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত গার্ডার ব্রিজ। অথচ নেই সংযোগ সড়ক! জমি অধিগ্রহণের জটিলতায় অ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণ আটকে থাকায় ডুমুরিয়ার বাদুরগাছা-কুলটি ও গজেন্দ্রপুরের দুটি গুরুত্বপূর্ণ গার্ডার ব্রিজ এখন অনেকটা ‘ব্যবহারহীন সৌন্দর্য’ হয়ে পড়ে আছে। ফলে সেতু পেয়েও যোগাযোগ সুবিধা পাচ্ছেন না দুই অঞ্চলের হাজারো মানুষ।জানা যায়, খুলনা বিভাগ পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ডুমুরিয়ায় নির্মিত হয়েছে এ দুটি গার্ডার ব্রিজ। বাদুরগাছা-কুলটি সড়কে কৈয়া নদীর ওপর ৪ কোটি ৩৪ লাখ ২৫ হাজার ৯২৮ টাকা ব্যয়ে ৬৫ মিটার দীর্ঘ ব্রিজটির মূল নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে প্রায় দুই বছর আগে। কিন্তু অ্যাপ্রোচ সড়কের জায়গা অধিগ্রহণ না হওয়ায় এখনো সেতুটি জনসাধারণের চলাচলের জন্য পুরোপুরি উন্মুক্ত হয়নি।জমি অধিগ্রহণ তালিকায় রয়েছেন কুলটি গ্রামের শংকর সানা, চিরঞ্জিত সানা, রনজিত সরকার এবং বাদুরগাছা গ্রামের প্রভঞ্জন সরকার, গোপাল মন্ডল, নারায়ন সরকার ও অনাদি সরকার। জমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন না হওয়ায় মালিকরা দখল ছাড়ছেন না। ফলে মূল সেতু দাঁড়িয়ে থাকলেও সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা যাচ্ছে না।বাদুরগাছা গ্রামের পরিতোষ কুমার সরকার বলেন, “ব্রিজের কাজ শেষ হয়েছে অনেক আগে। কিন্তু অ্যাপ্রোচ সড়ক না থাকায় মানুষের দুর্ভোগের শেষ নেই।” একসময় কুলটি ও বাদুরগাছার দুই পাড়ের মানুষ বাঁশের সাঁকো দিয়ে পারাপার করতেন। বর্তমানে সেটিও নেই। এখন বাঁশ দিয়ে তৈরি সিঁড়ি বেয়ে মানুষকে ব্রিজে উঠতে হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা।অন্যদিকে একই দশা শরাফপুর ইউনিয়নের গজেন্দ্রপুর গার্ডার ব্রিজের। ভদ্রা নদীর ওপর ৪ কোটি ৪৬ লাখ ৭৪ হাজার ৩১১ টাকা ব্যয়ে উলা বাজার-শরাফপুর ইউপি অফিস (বানিয়াখালী) সড়কে নির্মিত ৮৪ মিটার দীর্ঘ ব্রিজটির মূল কাজ শেষ হয়েছে প্রায় দুই বছর আগে। কিন্তু জমি অধিগ্রহণ ও ক্ষতিপূরণ সংক্রান্ত জটিলতায় অ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণ না হওয়ায় সেতুটি পড়ে আছে।এলাকাবাসীর অভিযোগ, ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিকদের সঠিক ক্ষতিপূরণ না দেওয়া এবং জমি নিয়ে বিরোধের কারণে প্রকল্পটি দীর্ঘসূত্রতায় পড়েছে। ভূমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন না করেই প্রকল্প শুরু করার অভিযোগও রয়েছে।বিএনপি নেতা মশিউর রহমান লিটন বলেন, গজেন্দ্রপুর ব্রিজটি নির্মাণ শেষ হলেও দীর্ঘদিন ধরে পড়ে আছে। এ এলাকায় ব্যাপক কৃষি ফসল উৎপাদন হয়। কৃষকরা উৎপাদিত সবজি বাজারে নিতে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন। কিছুদিন আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এসে অ্যাপ্রোচ সড়কের জায়গা পরিমাপ করে প্লাগ টানিয়ে দিয়েছে। এতে মনে হচ্ছে অধিগ্রহণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে।উপজেলা প্রকৌশলী মুহাম্মদ দারুল হুদা জানান, ভূমি অধিগ্রহণ উপজেলা প্রকৌশল দপ্তরের দায়িত্ব নয়; এটি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। তবে কুলটি ব্রিজের ভূমি অধিগ্রহণ কার্যক্রম অনেকটা এগিয়েছে। গজেন্দ্রপুর ব্রিজের ক্ষেত্রেও কয়েকদিন আগে ভূমি পরিমাপের কাজ শেষ হয়েছে। অধিগ্রহণ কার্যক্রম শেষ হলে অ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণের জন্য টেন্ডার দেওয়া হবে।কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে সেতু নির্মাণের পরও যদি সংযোগ সড়কের অভাবে তা পড়ে থাকে, তাহলে উন্নয়নের সুফল পৌঁছাবে কবে—এ প্রশ্নই এখন বাদুরগাছা-কুলটি ও গজেন্দ্রপুরের মানুষের মুখে মুখে।
মন্তব্য করুন