ডুমুরিয়া,নিজস্ব প্রতিনিধি জি,এম,ফিরোজ
শাহপুর-হাসানপুর সড়কে ৩ বছর ধরে বেহাল দশা—ইট তুলে কোথায় গেল, প্রশ্ন এলাকাবাসীর; দ্রুত নতুন করে কাজ শুরুর আশ্বাস।রাস্তা ছিল, ইটও ছিল। এখন নেই কোনোটারই ঠিকঠাক অস্তিত্ব—চলাচলের একমাত্র ভরসা দাঁড়িয়েছে এক পায়ের বাঁশের সাঁকো! ডুমুরিয়ার শাহপুর গরুর হাটের পাশ দিয়ে হাসানপুর মরণতলা পর্যন্ত সড়কের ইট তুলে নেওয়ার পর প্রায় তিন বছর ধরে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন এলাকাবাসী। সড়কের ইটগুলো কোথায় গেল—এ প্রশ্ন এখন ঘুরছে স্থানীয়দের মুখে মুখে।উপজেলার মধুগ্রামের মো. রেজাউল গাজী (৫৫) বলেন, শাহপুর থেকে হাসানপুর সড়কের পাশে অনেকের জমি ও ঘের রয়েছে। আগে সহজেই সেখানে যাতায়াত করা যেত। এখন বাঁশের সাঁকু দিয়ে কিছুটা পথ যেতে হয়, এরপর পানি ঠেঙিয়েই জমি-ঘেরে পৌঁছাতে হচ্ছে।স্থানীয় একাধিক সূত্রের দাবি, প্রায় তিন বছর আগে সড়ক থেকে ইট তুলে ৩ নম্বর রুদাঘরা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান গাজী তৌহিদের বাড়ির পাশে স্থানীয় জালাল মাস্টারের বাঁশবাগানে প্রায় লক্ষাধিক ইট রাখা হয়েছিল। কিছুদিন পর সেখান থেকে ইটগুলোও অদৃশ্য হয়ে যায় বলে অভিযোগ।এ বিষয়ে ২ নং রঘুনাথপুর ইউনিয়নের ইউপি সদস্য উকিল উদ্দিন বলেন, “রাস্তা থেকে উঠিয়ে আনা ইটের কিছু শাহপুর গরুর হাটের পশ্চিম পাশে রাখা হয়েছিল। বাকিগুলো কী হয়েছে, আমি ঠিক ভালো বলতে পারব না।”৩ নং রুদাঘরা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ফেরদাউস বলেন, “সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যানের নির্দেশে সাবেক ৩ নম্বর রুদাঘরা ইউনিয়ন চেয়ারম্যান তৌহিদ সাহেব ইটগুলো উঠিয়ে চেয়ারম্যানের বাড়ির পাশে স্থানীয় জালাল মাস্টারের বাঁশবাগানে রেখেছিলেন। সেখান থেকে কোথায় গেল, আমরা জানি না।”নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তির অভিযোগ, ৫ আগস্টের আগে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যানের নির্দেশেই সড়কের ইট তুলে নেওয়া হয়েছিল। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা নিশ্চিত করা যায়নি।সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক জি এম আমানউল্লাহ বলেন, “৫ আগস্টের আগে অনেক লুটপাট হয়েছে এ দেশে। তার একটি অংশ শাহপুর গরুর হাটের পাশ দিয়ে হাসানপুর মরণতলার রাস্তাটির ইট লুটপাট হয়েছে—কিছু কুচক্রী ব্যক্তির কারণে।”এদিকে ২ নং রঘুনাথপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনোজিৎ বালা ও ৩ নং রুদাঘরা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সিহাব উদ্দিন মোল্লা বলেন, “আমাদের ওই রাস্তার ইটগুলো উঠানোর সময় কিছু বলা হয়নি। তবে পরে বিষয়টি নিয়ে উপজেলা পর্যায়ে স্যারদের সঙ্গে কথা বলেছি। এখন নতুন করে বাজেট দিলে দ্রুত কাজ শুরু করা হবে।”ডুমুরিয়া উপজেলা প্রকৌশলী মোহাম্মদ নুরুল হুদা বলেন, ওই সময়ে তিনি ডুমুরিয়া উপজেলায় কর্মরত ছিলেন না; পরে এখানে যোগ দিয়েছেন। বিষয়টি সহকারী প্রকৌশলী মিঞ্জু ভালো জানেন। তবে বক্তব্য নিতে তাকে উপজেলা কার্যালয়ে পাওয়া যায়নি এবং মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। এবিষয়ে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান গাজী ইজাজ পলাতক থাকায় তার সাক্ষাৎকার নেওয়া সম্ভব হয়নি।ইটহীন সড়ক আর বাঁশের সাঁকোয় আটকে আছে মানুষের চলাচল। স্থানীয়দের প্রশ্ন—কবে ফিরবে সেই রাস্তা, আর কবে শেষ হবে বছরের পর বছর ধরে চলা এই দুর্ভোগ?
মন্তব্য করুন