ডুমুরিয়া,নিজস্ব প্রতিনিধি জি.এম.ফিরোজ
চারদিকে শুধু পানি আর পানি। রাস্তাঘাট, স্কুল, বাড়ির আঙিনা—সবই পানির নিচে। হাঁটুপানি পেরিয়ে কিংবা নৌকায় চড়ে স্কুলে যেতে হচ্ছে শিশুদের। রান্নার জ্বালানি, চাল-ডাল ও গোখাদ্যের সংকটে দিশেহারা পরিবারগুলো। বিশুদ্ধ খাবার পানি ও স্যানিটেশন ব্যবস্থাও ভেঙে পড়েছে। দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতায় পানি-বাহিত রোগের আশঙ্কা বাড়লেও পর্যাপ্ত চিকিৎসা সুবিধা নেই। এমনই ভয়াবহ পরিস্থিতি বিরাজ করছে ডুমুরিয়ার বিল ডাকাতিয়ার রঘুনাথপুর ও রংপুর ইউনিয়নের কৃষ্ণনগর গ্রামে।সরেজমিনে দেখা গেছে, গ্রামের অধিকাংশ রাস্তাঘাট পানিতে তলিয়ে গেছে। কোথাও হাঁটুপানির বেশি পানি, আবার কোথাও চলাচলের জন্য নৌকাই একমাত্র ভরসা। কৃষ্ণনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কৃষ্ণনগর এমবিবিএস মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদেরও প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে পানি পেরিয়ে বিদ্যালয়ে যেতে হচ্ছে।কৃষ্ণনগর এমবিবিএস মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিমান কুমার রায় বলেন, বিদ্যালয়ে প্রায় ২০০ শিক্ষার্থী রয়েছে। জলাবদ্ধতার মধ্যেও শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ভালো থাকলেও প্রতিদিন তাদের ঝুঁকি নিয়ে বিদ্যালয়ে আসতে হচ্ছে। তিনি কৃষ্ণনগর এলাকার রাস্তাঘাট ও কৃষিজমির জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধানের দাবি জানান।বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী অনন্যা রায়, বৃষ্টি বৈরাগী ও পায়েল সরকার জানায়, প্রতিদিন পানি ভেঙে বিদ্যালয়ে আসতে ভয় লাগে। পানির মধ্যে সাপ, পোকামাকড় ও জীবাণুর ঝুঁকি রয়েছে। পানিতে ডুবে থাকায় বিদ্যালয়ের টয়লেট ব্যবহারও কঠিন হয়ে পড়েছে। বিশুদ্ধ পানিরও সংকট রয়েছে।রঘুনাথপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক বিধানচন্দ্র রায় ও বিএনপি নেতা তারক চন্দ্র মণ্ডল বলেন, প্রতিবছরই এ অঞ্চলের মানুষ জলাবদ্ধতার শিকার হন। শোলমারি থেকে জোয়ার-ভাটার মাধ্যমে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করে স্থায়ীভাবে জলাবদ্ধতা নিরসনের দাবি জানান তারা।এদিকে স্থানীয় সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আলী আজগর লবী কৃষ্ণনগরের তলিয়ে যাওয়া রাস্তায় বালু ভরাটের নির্দেশনা দিয়েছেন বলে জানান স্থানীয়রা। দ্রুত কাজ শুরু হলে কিছুটা দুর্ভোগ কমবে বলে আশা করছেন তারা।জলাবদ্ধতার কারণে শুধু যোগাযোগ নয়, খাদ্য ও জ্বালানি সংকটও তীব্র হয়েছে। চাল-ডাল ও রান্নার জ্বালানির অভাবে অনেক পরিবার কষ্টে দিন কাটাচ্ছে। গোখাদ্যের সংকটে অনেকে গরু-ছাগল, হাঁস-মুরগি বিক্রি করে দিতে বাধ্য হয়েছেন। কেউ কেউ সন্তানদের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়েছেন।স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন পানিবন্দি থাকলেও এখন পর্যন্ত সরকারি ত্রাণ, ওষুধ বা প্রয়োজনীয় সহায়তা তারা পাননি। জলাবদ্ধ এলাকায় জনসাধারণের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়লেও পর্যাপ্ত চিকিৎসা ব্যবস্থারও অভাব রয়েছে।স্থানীয়দের দাবি, ত্রাণ দিয়ে সাময়িক দুর্ভোগ কমানোর পাশাপাশি বিল ডাকাতিয়ার জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান করতে হবে। পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা, রাস্তাঘাট উঁচু করা এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা রক্ষায় জরুরি পদক্ষেপ চান তারা।
মন্তব্য করুন